রাজশাহীতে বাড়ছে ডেঙ্গুর ঝুঁকি, এডিসের ঘনত্বেও উচ্চমাত্রা

Dengue risk increasing in Rajshahi
আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী:- ১২ আগস্ট ২০২৬ ০৫:১৩ অপরাহ্ন স্বাস্থ্য
আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী:- ১২ আগস্ট ২০২৬ ০৫:১৩ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে বাড়ছে ডেঙ্গুর ঝুঁকি, এডিসের ঘনত্বেও উচ্চমাত্রা
বর্ষার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রাজশাহীতে বাড়ছে ডেঙ্গুর ঝুঁকি। --সংগৃহীত ছবি

বর্ষার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রাজশাহীতে বাড়ছে ডেঙ্গুর ঝুঁকি। প্রতিদিনই নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে। 


বর্তমানে হাসপাতালটিতে ২১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এরই মধ্যে নগরীতে এডিস মশার ঘনত্বও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত উচ্চ ঝুঁকির সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে।


বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাক-বর্ষা কীটতাত্ত্বিক জরিপে রাজশাহী নগরীতে এডিস মশার উপস্থিতির উচ্চ ঝুঁকির চিত্র উঠে এসেছে। গত মে মাসে নগরীর ৭৫টি বাড়িতে জরিপ চালানো হয়। এর মধ্যে ১৫টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। জরিপ অনুযায়ী, হাউস ইনডেক্স দাঁড়িয়েছে ২০ শতাংশ এবং ব্রুটো ইনডেক্স ৩০ দশমিক ৬৬ শতাংশ।


সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্রুটো ইনডেক্স ২০-এর বেশি হলে সেটিকে এডিস মশার বিস্তারের ক্ষেত্রে উচ্চ ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে রাজশাহীতে এডিস মশার ঘনত্ব নিয়ে নতুন করে সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।


এদিকে জরিপের ফলাফল পাওয়ার পর এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং মশক নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনকে চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বিশেষ করে বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, ফুলের টব ও জমে থাকা পানিকে এডিসের সম্ভাব্য প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


এদিকে রামেক হাসপাতালে প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছেন। বর্তমানে সেখানে ২১ জন রোগী চিকিৎসাধীন। বর্ষা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে জরুরি। জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা কিংবা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। একই সঙ্গে নিজের বাড়ি ও আশপাশে কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করে জমে থাকা পানি অপসারণ করতে হবে।


ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও মশক নিধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।


সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনা—এই তিনটি উদ্যোগ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে রাজশাহীতে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।