গোদাগাড়ীতে অবৈধ সার মজুদের দায়ে কীটনাশক ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, ১৩২ বস্তা সার জব্দ
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অবৈধভাবে সার মজুদের দায়ে এক কীটনাশক ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ওই ব্যবসায়ীর বাড়ির পেছনের গোয়ালঘর থেকে অবৈধভাবে মজুদ করা ১৩২ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকাল ৩টার দিকে উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের কানাইডাঙ্গা এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কানাইডাঙ্গা এলাকার 'মেসার্স জিএস ট্রেডার্স' নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। এ সময় উক্ত প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও খুচরা কীটনাশক ব্যবসায়ী নাসিরউদ্দিনের (৪৫) বাড়ির পেছনের একটি গোয়ালঘরে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে গোয়ালঘর থেকে অবৈধভাবে লুকিয়ে রাখা ৮৬ বস্তা এমওপি (পটাশ) এবং ৪৬ বস্তা ডিওপি সার উদ্ধার করা হয়।
অভিযুক্ত নাসিরউদ্দিন সরকারি অনুমোদিত কোনো সার ডিলার নন। তিনি মূলত একজন খুচরা কীটনাশক ব্যবসায়ী। লাইসেন্স বা কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই অধিক মুনাফার উদ্দেশ্যে তিনি এই বিপুল পরিমাণ সার অবৈধভাবে মজুদ করেছিলেন। সারের এই অবৈধ মজুদের অপরাধ স্বীকার করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে শাস্তির আদেশ দেন এবং অবৈধভাবে রাখা সব সার জব্দ করেন।
অভিযান শেষে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান বলেন, "চলতি আমন মৌসুমে কৃষকেরা যাতে সার সংকটে না পড়েন এবং সঠিক মূল্যে সার পান, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা যে-ই হোক না কেন, অনুমোদন ছাড়া অবৈধভাবে সার মজুদ কিংবা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। কৃষক স্বার্থ সুরক্ষায় এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমাদের এই নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানকালে স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও গোদাগাড়ী মডেল থানা পুলিশের একটি দল ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। জব্দকৃত সারগুলো পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ী কৃষকদের মাঝে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।