বদলগাছীতে আমন চারার জমজমাট বাজার: নিচু জমি ও আউশের জমিতে রোপণে ব্যস্ত কৃষক
অতিবৃষ্টিতে বীজতলা তলিয়ে চারা নষ্ট, কোথাও পাট কাটা হয়েছে, আবার কোথাও আউশ ধান ঘরে তোলার পর জমি হয়েছে ফাঁকা। এসব জমিতে সময়মতো রোপা আমন ধান লাগাতে বাজারমুখী হয়েছেন কৃষকেরা। ফলে নওগাঁর বদলগাছীর বিভিন্ন হাটে এখন জমে উঠেছে আমন ধানের চারার বাজার। চাহিদা বাড়ায় ভালো দামও পাচ্ছেন চারা বিক্রেতারা।
গতকাল ১৯শে আগষ্ট বুধবার বিকেল থেকে ২০শে আগষ্ট বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বদলগাছী ও ভান্ডারপুর হাট ঘুরে দেখা যায়, হাটে হাটে ধানের চারা নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। প্রয়োজন অনুযায়ী চারা কিনছেন কৃষকেরা। কেউ কিনছেন পাট কেটে ফেলা জমির জন্য, কেউবা ডোবা ও নিচু জমিতে আমন রোপণের জন্য। অতিবৃষ্টিতে নিজের বীজতলা নষ্ট হওয়া কৃষকদের সংখ্যাও কম নয়।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে বদলগাছীতে ১৪ হাজার ৪৯৪ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১২ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। আউশ ধান কাটা ও পাট কাটার সঙ্গে সঙ্গে অবশিষ্ট জমিগুলোতেও আমন রোপণ শুরু হয়েছে।
কৃষি অফিসের তথ্যমতে, উপজেলায় ব্রি ধান-৯৩, ৭৫, ৩৪, ৯০, ৮৭, ৪৯, ৫১, বিনা-১৭, স্বর্ণা-৫, ধানী গোল্ড, চিনি আতব ও গোল্ডেন আতবসহ বিভিন্ন জাতের ধান চাষ হচ্ছে। কৃষকদের উচ্চফলনশীল ও ভালো ফলন দেয় এমন জাত চাষে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন জাত ব্রি ধান-১০৩ চাষেও উৎসাহিত করা হচ্ছে।
হাটে জাত ও পরিমাণভেদে ভিন্ন দামে চারা বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পণ চিনি আতব ও গোল্ডেন আতবের চারা ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, স্বর্ণা-৫ জাতের চারা ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং ৯০ জাতের চারা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বদলগাছী হাটের ইজারাদার আল আশারি বলেন, উপজেলার প্রায় প্রতিটি হাটেই প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ১০০ পণ ধানের চারা বিক্রি হচ্ছে। এ বছর চারার আমদানিও ভালো রয়েছে।
বদলগাছী হাটে চারা কিনতে আসা জিধিরপুর গ্রামের কৃষক রশিদ বলেন, পাটের জমিতে আমন ধান লাগাব। তাই ৯০ জাতের চারা কিনতে এসেছি।
ভান্ডারপুর হাটে চারা নিতে আসা কার্তিকাহার গ্রামের কৃষক ইমরান বলেন, ডোবা জমিতে আমন লাগানোর জন্য চারা নিচ্ছি। বেশি বৃষ্টিতে আগে বীজতলা পানিতে ডুবে চারা নষ্ট হয়ে গেছে। তাই এবার বাজার থেকেই চারা কিনতে হচ্ছে।
অন্যদিকে ঝাড়ঘরিয়া গ্রামের চারা বিক্রেতা জিল্লু বলেন, নিজের আমন ধান লাগানোর পর বীজতলায় কিছু চারা উদ্বৃত্ত ছিল। সেগুলোই বাজারে এনে বিক্রি করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাবাব ফারহান বলেন, নিচু ও ডোবা জমি, পাটের জমি এবং আউশ ধান কাটার পর এসব জমিতে এখন আমন রোপণ চলছে। এ কারণে বাজারে চারার চাহিদা বেড়েছে।
তিনি বলেন, ২৫ থেকে ৩০ দিনের চারা রোপণ করা উত্তম। এতে ফলন ভালো হয়। তবে অনেক কৃষক আমন মৌসুমে বেশি বয়সের চারা রোপণ করেন। এতে ফলন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।