সড়কে চাঁদাবাজির অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট,ভোগান্তিতে যাত্রীরা
সড়কে গাড়ি থামিয়ে চাঁদা আদায় ও শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগের প্রতিবাদে চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মবিরতিতে জেলার দূরপাল্লা, আন্তঃজেলা ও আন্তঃউপজেলা রুটে বাস এবং পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও মহানন্দা বাস টার্মিনাল থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা বিপাকে পড়েছেন। অনেকে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প যানবাহনে জেলার শেষ সীমানা পেরিয়ে রাজশাহীর দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দুটি সংগঠন একীভূতভাবে শ্রমিকদের কল্যাণে নির্ধারিত হারে চাঁদা আদায় করে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি ‘জেলা বাস, মিনিবাস ও কোচ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন’ নামে একটি পক্ষ শহরের হরিপুর এলাকায় সড়কে গাড়ি থামিয়ে আলাদাভাবে চাঁদা আদায় শুরু করেছে।
তার অভিযোগ, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গাড়ির চালক ও শ্রমিকদের মারধর করা হচ্ছে। এ ধরনের চাঁদাবাজি ও হামলার প্রতিবাদে বাস মালিক, ট্রাক মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো যৌথভাবে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সাইদুর রহমান বলেন, ‘টার্মিনালের বাইরে সড়কে গাড়ি থামিয়ে চাঁদা আদায়ের এখতিয়ার কোনো সংগঠনের নেই।’ দাবি পূরণ ও সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে জেলা কোচ, বাস ও মিনিবাস পরিবহন ইউনিয়নের সভাপতি রেজাউল করিম অভিযোগ করেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বাস, মিনিবাস ও কোচ শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা হরিপুর এলাকায় সড়কে গাড়ি দাঁড় করিয়ে চাঁদা আদায় করছেন। তার দাবি, এভাবে সড়কে গাড়ি থামিয়ে চাঁদা আদায় করা সড়ক পরিবহন আইনের লঙ্ঘন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা বাস, মিনিবাস ও কোচ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম শহিদ। তিনি বলেন, আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি সম্পূর্ণ অবৈধ। তাঁর ভাষ্য, ‘ট্রাকের লোক মোটর থেকে চাঁদা নিতে পারে না। তারা গায়ের জোরে এসব করছে। প্রশাসন কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তা বোধগম্য নয়।’
তিনি আরও দাবি করেন, তাঁদের সংগঠন ২০১৬ সালে বৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তারা কোনো ধরনের চাঁদাবাজি করছে না।
এদিকে দুই পক্ষের বিরোধ নিরসনে পুলিশ বৈঠক করেও সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ।
তিনি বলেন, দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করা হয়েছিল। কিন্তু উভয়পক্ষ নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় সমঝোতা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি সমাধানের জন্য পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘শ্রমিক সংগঠনের দুই পক্ষকেই স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—সড়কে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি করা যাবে না।’
পরিবহন শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে জেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। দ্রুত বিরোধের সমাধান না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।