১৮ লাখে বিয়ে, ১ লাখে প্রটেকশনঃ সাংবাদিকদের নিয়ে রাকসু জিএসের কার্টুন ও কুরুচিপূর্ণ পোস্ট
রাকসুর তহবিলের ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকা খরচের বিল-ভাউচার না থাকার বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকদের উদ্দেশে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় ফেসবুকে পোস্ট করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার।
তিনি তার ফেসবুকে লিখেন,‘১৮ লাখে বিয়ে, ১ লাখে প্রটেকশন’—এমন মন্তব্য করে তিনি সাংবাদিকদের কটাক্ষ করেন। তার এমন বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে সালাহউদ্দিন আম্মার লেখেন, ‘জিএস ১৮ লাখ টাকার ১৭ লাখ টাকা দিয়ে বিয়ে করছি আর ০১ লাখ টাকা দিয়ে শুধু উন্নতমানের প্রটেকশন কিনছি যাতে এমন কোনো সাংবাদিক আমার ঘরে পয়দা না হয়!’
এর আগে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে রাকসুর বিভিন্ন কর্মসূচির ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাকসুর ৪২টি কর্মসূচির বিপরীতে মোট ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার বৈধ বিল-ভাউচার জমা পড়েনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার এককভাবে ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন। এর মধ্যে তিন ধাপে উত্তোলন করা ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার ব্যয়ের কোনো হিসাব বা ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ প্রকাশের পর নিজের ফেসবুক পোস্টে আম্মার ওই অর্থের ব্যয়ের বিষয়ে ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের উদ্দেশে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি।
পরে আরেকটি পোস্টে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সদৃশ একটি প্যাকেটের ছবি দিয়ে রাকসুর তহবিল নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন আম্মার। সেখানে তিনি লেখেন, ‘রাকসুর তহবিলের টাকা মেরে খেয়েছে ভিপি, জিএস, এজিএস, সম্পাদকরা!! এখনো রাকসুর মেয়াদ শেষ হয়নি। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাদের অডিট হবে। জনগণের সামনে স্ব স্ব সম্পাদক নিজেদের হিসাব দেবেন। তারপর যা প্রশ্ন ওঠার উঠবে।’
তিনি আরও দাবি করেন, সাংবাদিকরা যে তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন করেছেন, সেখানে কত টাকা উত্তোলন করা হয়েছে সেটি উল্লেখ থাকলেও কত টাকার মধ্যে আয়োজন শেষ করে কত টাকা রাকসুর অ্যাকাউন্টে ফেরত দেওয়া হয়েছে—সে তথ্য তাদের কাছে নেই।
চলমান কর্মসূচির ভাউচার কীভাবে সমন্বয় করা হবে—এ প্রশ্নও তুলে তিনি বলেন, রাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সভাপতি, ট্রেজারারসহ সংশ্লিষ্ট সবার টাকার হিসাব দেওয়া হবে।
তবে ওই পোস্টের শেষাংশেও সাংবাদিকদের উদ্দেশে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমদ রাহী বলেন, ‘রাকসু জিএসের পারিবারিক শিষ্টাচারের অভাব রয়েছে। তার নৈতিক মূল্যবোধের পাঠ অধ্যয়ন করা উচিত।’ তাকে শিষ্টাচার শেখাতে ও নৈতিক মূল্যবোধের পাঠ দিতে পরিবারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
রাবি শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল শাহরিয়ার শুভ বলেন, রাকসু কার্যকর হওয়ার পর থেকেই সালাহউদ্দিন আম্মারের সমালোচনা করলে তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তার ভাষা ও আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে জিএসের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে রাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বিষয়টির ব্যাপারে অবগত ছিলাম না। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী বা শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় মন্তব্য করার এখতিয়ার কেউ রাখেন না।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরাও একজন শিক্ষার্থী। তাদের উদ্দেশ্যে কেউ কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করতে পারেন না।’
এদিকে রাকসুর তহবিলের অর্থ ব্যয়, বিল-ভাউচার জমা এবং উত্তোলিত অর্থের প্রকৃত ব্যবহার নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাকসুর মেয়াদ শেষে অডিট ও হিসাব প্রকাশের যে কথা জিএস আম্মার বলেছেন, তা বাস্তবে কীভাবে এবং কতটা স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়—সেদিকেও নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।