সংকটে স্বস্তির বার্তা

তিন দিন পর এক্সিলারেট টার্মিনালের গ্যাস সরবরাহ চালু

Gas supply to Accelerate Terminal resumed
অনলাইন ডেস্ক ২২ আগস্ট ২০২৬ ০৮:৪৭ অপরাহ্ন অর্থনীতি
অনলাইন ডেস্ক ২২ আগস্ট ২০২৬ ০৮:৪৭ অপরাহ্ন
তিন দিন পর এক্সিলারেট টার্মিনালের গ্যাস সরবরাহ চালু
--সংগৃহীত ছবি

মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) বা এলএনজি টার্মিনালটি তিন দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার (২২ আগস্ট) পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে। এলএনজি কার্গোর ঘাটতির কারণে গত তিন দিন সরবরাহ বন্ধ ছিল।


স্পট মার্কেট থেকে কেনা ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের (বিপি) এলএনজিবাহী একটি কার্গো নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই শনিবার দেশে পৌঁছায়। দুপুর থেকে শুরু হয় রিগ্যাসিফিকেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা দেশের চলমান তীব্র গ্যাস সংকটে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে।


শনিবার বিকেলে পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।


পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ২টার দিকে টার্মিনালটি থেকে পুনরায় সরবরাহ শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে দৈনিক প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা অপারেশন স্থিতিশীল হওয়ার সাথে সাথে পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।


পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ৪টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৩০ কোটি ঘনফুটের কিছু বেশি। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ হয়েছে ১৬২ কোটি ঘনফুটের কিছু বেশি। আর সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে এসেছে প্রায় ৬৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস।


এর আগে বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে টার্মিনালে থাকা এলএনজির মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় এক্সিলারেটের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ কমে গিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে সংকট আরও তীব্র হয়।


সংশ্লিষ্টরা জানান, এক্সিলারেটের টার্মিনালের জন্য স্পট মার্কেট থেকে কেনা বিপির একটি এলএনজিবাহী কার্গো রোববার (২৩ আগস্ট) দেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই, শনিবার কার্গোটি এসে পৌঁছায়। এরপর টার্মিনালে এলএনজি খালাসের কাজ শুরু হয়। ফলে ধীরে ধীরে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে।


পেট্রোবাংলার পরিচালক (প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট) মো. শোয়েব গণমাধ্যমকে জানান, কার্গো পৌঁছানোর পর এলএনজি খালাস এবং তা গ্যাসে রূপান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগে। ফলে কার্গো আসার সঙ্গে সঙ্গেই টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করতে পারে না। এই সরবরাহের পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পাবে।


উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তরের সময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই এই টার্মিনালটি দীর্ঘ সময় অকেজো ছিল। ওই অগ্নিকাণ্ডের ফলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ হ্রাস পায়।


পরবর্তীতে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালটি মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ দ্রুত আমদানির পদক্ষেপ নেয়। মেরামত শেষে এক্সিলারেট আংশিক সরবরাহ শুরু করলেও গত সপ্তাহে এলএনজি মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় তা আবারও বন্ধ হয়ে যায়।