পাহাড়ে তরুণ ও বাবা-মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু: সামনে এলো নতুন তথ্য
ভারতের মহারাষ্ট্রে পাহাড় থেকে পড়ে ১৮ বছর বয়সী তরুণ কুণাল ও তার বাবা-মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) তিনজনের মৃত্যুর ঘটনার আগের দিন নিজের ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ওই তরুণের মা সঙ্গীতা, যেখানে সম্পর্কে টানাপড়েনের বার্তা দিয়েছিলেন তিনি।
শুক্রবারের ঘটনার পর জানা গিয়েছিল, আইফোন নিয়ে তর্ক থেকে ওই হৃদয়বিদারক ঘটনা। তবে এই ভিডিও সামনে আসার পর প্রশ্ন উঠছে, নেপথ্যে শুধু আইফোন নিয়ে তর্কই ছিল, নাকি পারিবারিক কোনো টানাপড়েনও কাজ করেছিল।
পরিবারে থাকা অশান্তির আঁচ ওই তরুণের ওপরও কি পড়েছিল?
শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগর জেলার খাওদা পাহাড়ে উঠে পড়েছিলেন কুণাল। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি সম্প্রতি একটি আইফোন কিনেছিলেন।
তার ইএমআই (কিস্তি) দেওয়ার জন্য বাড়িতে টাকা চান। না পেয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।
রাগারাগি করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান এবং পাহাড়ের কিনারায় চলে যান। পেছন পেছন ছুটে আসেন সঙ্গীতা ও তার স্বামী মুরলীধরও। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে পাহাড়ের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেকে নানাভাবে তারা বোঝানোর চেষ্টা করেন।
‘আমি লাফ দেব’ –বলে বাবা-মাকে বারবার ভয় দেখাচ্ছিলেন ওই তরুণ। সেখানে গ্রামবাসীও জড়ো হন। একসময় ছেলেকে টেনে আনতে এগিয়ে যান বাবা। পরে দুজনে পাহাড় থেকে একসঙ্গে ২০০ ফুট গভীর খাদে গিয়ে পড়েন। সেই দৃশ্য দেখে সঙ্গীতাও ঝাঁপ দেন।
ঘটনার আগের দিন বৃহস্পতিবার ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন সঙ্গীতা। সেখানে সম্পর্কের টানাপড়েন নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান। এক মিনিটের ভিডিওতে তিনি মরাঠী ভাষায় বলেন, যে তোমাকে আর তোমার ভালবাসাকে গুরুত্ব দেয়, তার জন্য জীবন দিয়ে দিতে প্রস্তুত হও। যদি কেউ তোমাকে গুরুত্ব না দেয়, তার জন্য কিছু করার মানে নেই।
সম্পর্কের সমীকরণ বোঝাতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, দুদিক দিয়ে সেঁকলে তবেই রুটি খেতে ভালো লাগে। সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা তাই। দুদিক থেকে চললে, দুজনেই সম্পর্ককে গুরুত্ব দিলে সেই সম্পর্কে থেকে যাওয়া উচিত। না হলে সম্পর্কের কোনো অর্থ হয় না। তা থেকে বের হয়ে আসাই ভালো।
জানা গেছে, সঙ্গীতা ও মুরলীধরের বড় ছেলে বছর ছয়েক আগে মারা যান। তারপর থেকে সঙ্গীতা আলাদা থাকতেন। তার ইউটিউব চ্যানেলে ২৯ হাজার ফলোয়ার রয়েছে। মাঝেমধ্যে সেখানে ভিডিও পোস্ট করতেন তিনি। কোনো কোনো ভিডিওতে ছেলেকেও সামনে আনতেন।
তার পোস্ট করা অন্য একটি ভিডিওতে স্বামীর সংসারে ননদদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন সঙ্গীতা। তবে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। তার ভিডিওগুলোতে পরিবারে অশান্তির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, বছরখানেক আগে আত্মহত্যার উদ্দেশে একই জায়গায় গিয়েছিলেন কুণাল। পুলিশ তখন তাকে বুঝিয়ে নিরাপদে নামিয়ে আনতে পেরেছিল। তবে এবার আর তা সম্ভব হয়নি।
সূত্র: আনন্দবাজার