নিয়ামতপুরে ধান বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে কৃষক

Farmers in trouble as they cannot sell their paddy
সবুজ সরকার, নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: ২৮ আগস্ট ২০২৬ ০২:৪৮ অপরাহ্ন সারা বাংলা
সবুজ সরকার, নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: ২৮ আগস্ট ২০২৬ ০২:৪৮ অপরাহ্ন
নিয়ামতপুরে ধান বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে কৃষক
নিয়ামতপুরে ধান বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে কৃষক

কৃষক টিপু মন্ডলের আমন খেতে  সার ও কীটনাশক দেওয়া দরকার। প্রয়োজন টাকার। এজন্য বোরো ধান  বিক্রির উদ্দেশ্যে  স্থানীয় বাজারের আড়তে নিয়ে যান। তবে সেই ধান বিক্রি করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন। ধান ব্যবসায়ীরা ধান কেনা বন্ধ রেখেছেন। 

কৃষক টিপু মন্ডলের মতো নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার অনেক কৃষক ধান বিক্রি করতে না পারায় বিপদে পড়েছেন।

কৃষকরা বলছেন, আড়তে ধান নিয়ে গেলে ব্যবসায়ীরা কিনতেই চাচ্ছেন না। অনেকে নিতে চাইলেও দাম কম বলছেন। আবার অনেক  শুধু ভালো মানের ধান কিনছেন। মান খারাপ হলে কিনছেন না। 

আর ধান ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিলাররা তাঁদের কাছ থেকে ধান না কেনায় এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। 


উপজেলার নিয়ামতপুর সদর, ভাবিচা, গাবতলী, ছাতড়া, টগরইল-ঘুঘুডাঙ্গা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বেশির ভাগই ব্যবসায়ী কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনছেন না। অনেকে কিনলেও ধানের মান দেখে কম দামে অল্প পরিমাণে কিনছেন। 


ভাবিচা গ্রামের কৃষক টিপু মন্ডল বলেন, আমন ধানে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক দেওয়া প্রয়োজন। এজন্য বাজারে বোরো ধান বিক্রি করতে গেছিলাম। গিয়ে শুনি- বেশিরভাগই  আড়তদাররা ধান কেনা বন্ধ রেখেছেন। অনেকে অল্প দামে কিনছেন। 


গত কয়েকদিন আগে উপজেলার রুদ্রপুর গ্রামের একজন কৃষক ভাবিচা বাজারে ধান বিক্রি করার জন্য নিয়ে এসেছিলেন। কোনো আড়তদার সেই ধান কিনতে রাজি হননি। বাধ্য হয়ে মান্দা উপজেলার কালিতলা বাজারে গিয়ে বিক্রি করে এসেছেন। 


নিয়ামতপুর সদরের ধান ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম বলেন, গত এক মাস থেকে মিলাররা আমাদের কাছে থেকে ধান কিনছেন না। আমরাও মিলারদের কাছে ধান বিক্রি করতে পারছি না। মিলাররা আগের বাকী টাকাও আমাদের পরিশোধ করছেন না। তাই আমরাও ধান কিনতে পারছি না।


গাবতলী বাজারের ধান ব্যবসায়ী মোঃ টুটুল বলেন, মিলাররা আমাদের কাছ থেকে ধান না কেনায় আমরাও কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনতে পারছি না। 


ভাবিচা বাজারের ধান ব্যবসায়ী সুমন প্রাং বলেন,  কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে গত কয়েকদিন আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি মিলে পাঠিয়েছিলেন। ধানের মান খারাপ বলে মিল কর্তৃপক্ষ কিনতে রাজি হননি। তিনি ধান ফেরত এনেছেন। এতে তাঁর প্রায় ৩০ হাজার টাকা লস হয়েছে। 


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন,  এই অঞ্চলের অর্থনীতি মূলত ধাননির্ভর। ধান বিক্রি করতে না পেরে চাষিরা খুবই বিপাকে আছেন। কৃষকেরা অনেক কষ্ট করে ফসল ফলান। উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে না পারলে ও কাঙ্খিত দাম না পেলে তারা খুব হতাশ হন। ধান কেনা-বেচা যদিও  কৃষি বিভাগীয় সম্পর্কিত নয়। তিনি এসমস্যার আশু সমাধানে  যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।