১২ টাকা কেজি দরে বিক্রি ২টি লোকোমোটিভ ॥ পার্বতীপুরে ইঞ্জিন দুটির চলছে ভাঙার কাজ

2 locomotives sold at 12 taka per kg
আবুল কালাম আজাদ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:৩৩ অপরাহ্ন সারা বাংলা
আবুল কালাম আজাদ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:৩৩ অপরাহ্ন
১২ টাকা কেজি দরে বিক্রি ২টি লোকোমোটিভ ॥ পার্বতীপুরে  ইঞ্জিন দুটির চলছে ভাঙার কাজ
বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে দীর্ঘদিন সেবা দেওয়ার পর এবার স্ক্র্যাপে পরিণত হয়েছে ৬৩০২ ও ৬৩০৬ নম্বর দুটি লোকোমোটিভ।

বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে দীর্ঘদিন সেবা দেওয়ার পর এবার স্ক্র্যাপে পরিণত হয়েছে ৬৩০২ ও ৬৩০৬ নম্বর দুটি লোকোমোটিভ। মাত্র ১২ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়েছে ইঞ্জিন দুটি। এরই মধ্যে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলওয়ে সেডে শুরু হয়েছে লোকোমোটিভ দুটির কাটিং বা ভাঙার কাজ।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর লোকোমোটিভ দুটি অচল হয়ে পড়ে। রেলওয়ের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় এগুলো পরিত্যক্ত হিসেবে বিবেচিত হওয়ার পর স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিক্রির পর বর্তমানে পার্বতীপুর রেলওয়ে সেডে শ্রমিকরা ইঞ্জিন দুটির বিভিন্ন অংশ খুলে কেটে আলাদা করছেন।


পার্বতীপুর বাংলাদেশ রেলওয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে কারিগরি কেন্দ্র। এখানে রয়েছে কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা, যেখানে লোকোমোটিভের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহোলিংয়ের কাজ করা হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক ও কারিগরি কার্যক্রমের সার্বিক তদারকির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর রয়েছে।


এদিকে পুরোনো দুটি লোকোমোটিভ মাত্র ১২ টাকা কেজি দরে বিক্রির বিষয়টি সামনে আসায় প্রশ্ন উঠেছে—ইঞ্জিন দুটির মোট ওজন কত ছিল, স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রির আগে এগুলোর মূল্যায়ন কীভাবে করা হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত রেলওয়ে কত টাকা রাজস্ব পেয়েছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি লোকোমোটিভ শুধু লোহার কাঠামো নয়। এতে ইঞ্জিন, জেনারেটর, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, কপার, অ্যালুমিনিয়াম, স্টিলসহ বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান যন্ত্রাংশ থাকে। ফলে পুরো লোকোমোটিভ স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রির ক্ষেত্রে কোন কোন যন্ত্রাংশ পুনর্ব্যবহারযোগ্য, কোনগুলো আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং কোন ভিত্তিতে কেজিপ্রতি দর নির্ধারণ করা হয়েছে—এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।


রেলওয়ের লোকোমোটিভ সংকটের মধ্যে পুরোনো ইঞ্জিনের ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালে রেলওয়র তথ্যানুযায়ী , বাংলাদেশ রেলওয়ের মিটারগেজ ও ব্রডগেজ মিলিয়ে ৩০৬টি লোকোমোটিভ রয়েছে। বছরে প্রায় ৫১টি লোকোমোটিভ ওভারহোলিংয়ের প্রয়োজন হলেও পার্বতীপুরের কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানায় তখন বছরে প্রায় ২১টি ইঞ্জিন ওভারহোলিং করা হচ্ছিল। এ পরিস্থিতিতে পার্বতীপুরে নতুন একটি কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।


সম্প্রতি পার্বতীপুরের কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা নিয়ে নতুন করে আগ্রহও দেখা গেছে। গত ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন কারখানাটি পরিদর্শন করেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্রোগ্রেস রেলের লোকোমোটিভের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমও পরিদর্শন করেন তিনি।


রেলওয়ের আধুনিকায়নের এমন উদ্যোগের মধ্যেই পুরোনো ৬৩০২ ও ৬৩০৬ নম্বর লোকোমোটিভের কাটিংয়ের ঘটনা সামনে এসেছে। ফলে সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, অচল হয়ে পড়া লোকোমোটিভগুলো বিক্রির আগে যন্ত্রাংশ পুনর্ব্যবহার, পুনরুদ্ধারযোগ্য মূল্য এবং স্ক্র্যাপের প্রকৃত বাজারদর যথাযথভাবে যাচাই করা হচ্ছে কি না।


বিশেষ করে ১২ টাকা কেজি দরে বিক্রির ক্ষেত্রে দর নির্ধারণের ভিত্তি, নিলাম বিজ্ঞপ্তি, দরপত্রে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা, সর্বোচ্চ দরদাতা, ইঞ্জিন দুটির মোট ওজন এবং সরকারি কোষাগারে জমা হওয়া অর্থের পরিমাণ প্রকাশ করা হলে বিক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকার কথা নয়।


এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।