পদ্মার পানি বাড়তেই নদী তীরবর্তী এলাকায় সাপের উপদ্রব, আতঙ্কে মানুষ
পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ও চরাঞ্চল ডুবে যাওয়ায় রাজশাহীর নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলে বিষধর রাসেল ভাইপার নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এবার নগরীর পদ্মাপাড়ের ‘সীমান্ত অবকাশ’ এলাকার পাশের জঙ্গলেও রাসেল ভাইপার পাওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকা ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
সম্প্রতি ‘সীমান্ত অবকাশ’ পার্কের পাশের জঙ্গল পরিষ্কার করার সময় স্থানীয়রা একটি রাসেল ভাইপার সাপ দেখতে পান। এছাড়া অন্যান্য প্রজাতির বহু সাপ নদীর তীরবর্তী এলাকায় দেখা যাচ্ছে।
এদিকে কয়েক দিন ধরে রাজশাহীর পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার পানি ১৭ দশমিক ২২ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ০৫ মিটার। এরই মধ্যে ভারত সীমান্তঘেঁষা চরখিদিরপুর, খানপুরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে।
পানি বাড়ায় নিচু চর ও ঝোপঝাড়ে থাকা সাপ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উঁচু স্থানে উঠে আসছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে চর খিদিরপুর ও মিডল চরের পানিবন্দী মানুষের মধ্যে সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার কথাও উঠে এসেছে।
রাজশাহীর পদ্মা অববাহিকায় রাসেল ভাইপারের উপস্থিতি নতুন নয়। এর আগে বাঘা, গোদাগাড়ী ও পবা উপজেলার পদ্মাতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় এই সাপের উপস্থিতি এবং দংশনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। বাঘার পদ্মার চরে কাজ করার সময় রাসেল ভাইপারের কামড়ে আক্রান্ত এক ব্যক্তির দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ক্ষতির ঘটনাও প্রকাশিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাসেল ভাইপার সাধারণত উসকানি না দিলে মানুষকে আক্রমণ করে না। তবে ফসলের জমি, ঝোপঝাড় ও চরাঞ্চলে চলাচলের সময় অসাবধান হলে দংশনের ঝুঁকি থাকে। তাই রাতে চলাচলের সময় টর্চ ব্যবহার, ঝোপঝাড়ে প্রবেশের আগে লাঠি দিয়ে নেড়ে দেখা এবং কৃষিকাজের সময় গামবুট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সাপে কাটলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। রাসেল ভাইপারের দংশনে অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া গেলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে বাঁচানো সম্ভব।
পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে চরাঞ্চলের মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে।
ফলে সাপের উপস্থিতি নিয়ে আতঙ্ক আরও বাড়ছে।আশঙ্কা এ অবস্থায় চর ও নদীতীরবর্তী এলাকায় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে সাপে কাটার চিকিৎসা প্রস্তুত রাখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।