রাজস্ব বাড়াতে ১১ ট্রেন ইজারা দিবে পশ্চিম রেল
লোকাল ও মেইল ট্রেন থেকে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব না পাওয়ায় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ১১টি ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চারটি ট্রেনের দরপত্র ইতোমধ্যে দাখিল হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি ট্রেনগুলোর জন্যও দরপত্র আহ্বান করা হবে।
রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, টিকিট বিক্রি ও টিকিট পরীক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে যে রাজস্ব আদায় হচ্ছে না, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেলে তা বাড়তে পারে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, পার্বতীপুর-রংপুর রুটের রমনা কমিউটার, বোনারপাড়া-পার্বতীপুর রুটের রামসাগর মেইল, লালমনিরহাট-বুড়িমারী রুটের বুড়িমারী কমিউটার এবং পার্বতীপুর-লালমনিরহাট রুটের লালমনি কমিউটার ট্রেনের দরপত্র দাখিল হয়েছে।
পরবর্তী ধাপে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে চলাচলকারী পূর্ণভবা ও মল্লিকা ট্রেনসহ আরও কয়েকটি ট্রেন ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
পশ্চিম রেলওয়ে সূত্র অনুযায়ী, পশ্চিমাঞ্চলে আন্তর্জাতিক, আন্তনগর, মেইল, কমিউটার ও লোকাল মিলিয়ে বিভিন্ন ধরনের ট্রেন চলাচল করছে। এর মধ্যে ২৪টি মেইল, কমিউটার ও লোকাল ট্রেন ইতোমধ্যে বেসরকারি অপারেটরদের কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে।
এসব ট্রেন থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা রাজস্ব পাচ্ছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে। নতুন করে আরও ১১টি ট্রেন ইজারা দেওয়া হলে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় থাকা ট্রেনের সংখ্যা আরও বাড়বে।
রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, লোকাল ও মেইল ট্রেনের একটি বড় সমস্যা হলো—সব যাত্রী টিকিট কাটেন না। আবার পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় প্রতিটি ট্রেনে নিয়মিত টিকিট পরীক্ষা করাও সম্ভব হয় না। এতে প্রকৃত যাত্রীসংখ্যার তুলনায় টিকিট বিক্রি কম হয় এবং রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি তৈরি হয়।
বেসরকারি অপারেটরের মাধ্যমে ট্রেন পরিচালনা করা হলে টিকিট বিক্রি, যাত্রী ব্যবস্থাপনা ও দৈনন্দিন পরিচালনায় আরও নজরদারি বাড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে রেল কর্তৃপক্ষ।
রেল কর্তৃপক্ষ বলছে ,১১টি ট্রেন ইজারা দিলে ঠিক কত টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আসবে—এ বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। কারণ, ইজারার মেয়াদ, চুক্তিমূল্য, ট্রেন পরিচালনার ব্যয় এবং বেসরকারি অপারেটরের কাছ থেকে আদায়যোগ্য অর্থের ওপর প্রকৃত রাজস্ব নির্ভর করবে।
তবে রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমানে যেসব ট্রেন থেকে প্রত্যাশিত রাজস্ব পাওয়া যাচ্ছে না, সেগুলোকে কার্যকর ব্যবস্থাপনায় আনতে পারলে রাজস্ব আদায় বাড়ানো সম্ভব।এ ক্ষেত্রে ইজারা চুক্তির শর্ত, নির্ধারিত অর্থ সময়মতো আদায়, ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণ এবং যাত্রীসেবার মান ঠিক রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে শুধু রাজস্ব বাড়লেই হবে না, যাত্রীসেবার মানও নিশ্চিত করতে হবে। ট্রেনের সময়সূচি মেনে চলা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, টিকিট ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং যাত্রীদের সঙ্গে আচরণের বিষয়গুলোও চুক্তির আওতায় কার্যকরভাবে নজরদারি করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে কম ভাড়ার লোকাল ও মেইল ট্রেনগুলো সাধারণ মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ফলে ইজারা দেওয়ার পর ভাড়া বৃদ্ধি বা সেবার মান কমে গেলে সাধারণ যাত্রীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক আহসান উল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, লোকাল ট্রেন থেকে কম আয় হওয়ার অন্যতম কারণ যাত্রীদের টিকিট কেনার অনীহা। পাশাপাশি সব ট্রেনে সঠিকভাবে টিকিট পরীক্ষা করার মতো পর্যাপ্ত জনবলও নেই।
তিনি বলেন, রাজস্ব বৃদ্ধি ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যেই ১১টি মেইল ও লোকাল ট্রেন ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চারটি ট্রেনের দরপত্র পড়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য ট্রেনগুলোরও দরপত্র আহ্বান করা হবে।
রেলওয়ের এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হলেও এর সুফল কতটা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে ইজারা চুক্তির বাস্তবায়ন ও নজরদারির ওপর। বেসরকারি অপারেটরকে নির্ধারিত রাজস্ব দেওয়ার পাশাপাশি ট্রেনের সময়সূচি, রক্ষণাবেক্ষণ ও যাত্রীসেবার মান বজায় রাখার বিষয়েও জবাবদিহির আওতায় রাখতে হবে।
রেল কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে লোকসান কমানোর পাশাপাশি এসব ট্রেন থেকে রাজস্ব আদায় বাড়ানো সম্ভব হবে।