পবায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত
সারাদেশে গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে তিন মাসব্যাপী বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। তারই ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতি শনিবার পবা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়। যার মূল লক্ষ্য অফিস ও বিভিন্ন স্থান পরিষ্কার, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, জমে থাকা পানি অপসারণ করা এবং ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরি করা।
সরেজমিনে দেখা গেছে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পবা উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং এলজিইডি প্রকল্পের আওতাধীন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা অভিযানে অংশ নিয়ে উপজেলা ক্যাম্পাসের রাস্তাসহ পাশের ঝোপঝাড় ও আবর্জনা পরিষ্কার করছেন। কর্মসূচি চলাকালে উপজেলা পরিষদ ভবনের প্রধান ফটক ও চত্বরের বিভিন্ন জায়গা, আশপাশের ড্রেন, ঝোপঝাড় এবং জমে থাকা পানির উৎসমুখ পরিষ্কার করা হয়।
এলজিইডি প্রকল্পের পরিছন্নতাকর্মীদের সুপারভাইজার আলাউদ্দিন বলেন, এই টিমে ৭৭ জন সদস্য ও ৫ জন সুপারভাইজারসহ মোট ৮২ জন সদস্য আছে। আমরা প্রতিদিন কাজ করি, ৩৬৫ দিনের ৩৬৩ দিনই কোথাও না কোথাও উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করে থাকি। পরিষ্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উপজেলা পরিষদের আশেপাশে ঝোপঝাড় পরিষ্কারে কাজ করছি। পবা উপজেলার বিভিন্ন রাস্তাঘাটের ভাঙ্গাচোরা মেরামত, রাস্তার আশেপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার, রাস্তার জলাবদ্ধতা নিরাসনে পানি নিষ্কাশন করাসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন নির্দেশনা পালন করে থাকি।
কর্মসূচির বিষয়ে পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইবনুল আবেদীন বলেন, সরকারের নির্দেশনায় তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিষদ এলাকা পরিষ্কার করেছি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। প্রতি শনিবার স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে উপজেলা পরিষদ চত্বরসহ নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা পানি ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে সচেতন হতে হবে। শুধু সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, এ জন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকেও সম্পৃক্ত করতে হবে। সকলে সম্মিলিতভাবে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ করলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এম.এম.এন জহুরুল ইসলাম, উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: শহিদুল ইসলাম, একাউনটেন্ট ক্লার্ক মো: সাদ্দাম হোসেনসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃ্ন্দ এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা অভিযানে অংশ নেন।