বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে প্রান্তিক আদিবাসী শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মতবিনিময়
প্রান্তিক আদিবাসী শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন করার লক্ষ্যে রাজশাহীর পবা উপজেলায় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আন্ধারকোঠা স্কুল অডিটোরিয়ামে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, পবা, রাজশাহীর উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী রাখা, পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি এবং সন্তানদের শিক্ষাজীবনে অভিভাবকদের আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, পবার সাধারণ সম্পাদক ছোটন সরদারের সঞ্চালনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন কসবা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ও লুইজা গাড়ি, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের রাজশাহী জেলা সাধারণ সম্পাদক মুকুল বিশ্বাস এবং সংগঠনের সিনিয়র সদস্য লদবিক বিশ্বাস।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, একটি শিশুর বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়াই শিক্ষাজীবনের শেষ কথা নয়; তাকে নিয়মিত বিদ্যালয়ে আনা, শ্রেণিকক্ষে মনোযোগী রাখা এবং পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পরিবারের পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন ভূমিকা প্রয়োজন।
আলোচনায় প্রান্তিক আদিবাসী পরিবারের সন্তানদের শিক্ষাজীবনে অভিভাবকদের অংশগ্রহণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতির কারণ খুঁজে বের করা, পড়াশোনার অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ নেওয়া এবং বিদ্যালয়ের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।
সভায় অংশ নেওয়াঅভিভাবকদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। এতে একটি বিষয়ও স্পষ্ট হয়ে ওঠে—শিক্ষাকে শুধু বিদ্যালয়ের বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না; শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষক ও সামাজিক সংগঠন—সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের ক্ষেত্রে শিক্ষার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত সচেতনতা ও সহযোগিতামূলক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।আয়োজকেরা জানান, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি ও পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়াতে অভিভাবকদের সঙ্গে এ ধরনের মতবিনিময় ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রয়োজন রয়েছে।