উত্তর কোরিয়া

১৩৯৯ বার ভূমিকম্পের কারণ পারমাণবিক পরীক্ষা চালানো

Nuclear testing caused 1,399 earthquakes
অনলাইন ডেস্ক ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৫০ পূর্বাহ্ন নির্বাচিত সংবাদ
অনলাইন ডেস্ক ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৫০ পূর্বাহ্ন
১৩৯৯ বার ভূমিকম্পের কারণ পারমাণবিক পরীক্ষা চালানো
--সংগৃহীত ছবি

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষার কারণে তাদের প্রধান পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্রের আশেপাশে ভূমিকম্পের সংখ্যা বেড়েছে বলে ধারণা হচ্ছে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ পারমাণবিক পরীক্ষার পরও ওই এলাকায় কয়েক বছর ধরে ভূকম্পন অব্যাহত ছিল। সময়ের সঙ্গে এসব ভূমিকম্পের সংখ্যার পাশাপাশি বাড়ছে তীব্রতাও।


গবেষকেরা বলছেন, বিষয়টি অস্বাভাবিক। কারণ, সাধারণত পারমাণবিক বিস্ফোরণের সঙ্গে সম্পর্কিত ভূমিকম্প কোনো পরীক্ষার কয়েক বছর পর পর্যন্ত ক্রমাগত বাড়ার কথা নয়। এলাকাটিতে প্রথম ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয় ২০১৩ সালে, উত্তর কোরিয়ার তৃতীয় পারমাণবিক পরীক্ষার পর। তবে পরবর্তী কয়েক বছরে সেখানে ভূমিকম্পের সংখ্যা ছিল খুবই কম।


পরিস্থিতি বদলে যায় ২০১৭ সালে। ওই বছর উত্তর কোরিয়া তার ষষ্ঠ এবং সবচেয়ে বড় পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর পর ওই এলাকায় ভূমিকম্পের সংখ্যা ও মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। গবেষণার লেখকেরা ভূমিকম্পের সংঘটন ও তীব্রতাকে বোঝাতে ব্যবহৃত ‘সিসমিকিটি’ সম্পর্কে বলেন, ‘২০১৭ সাল পর্যন্ত ভূমিকম্প খুবই কম ছিল। তবে ষষ্ঠ ও সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণের পর এর মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।’


২০১৭ সালের ওই পারমাণবিক পরীক্ষায় ৬ দশমিক ৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। একই বিস্ফোরণের কারণে একটি সুড়ঙ্গ ধসে পড়ার পাশাপাশি পাহাড়টির চূড়ার আকৃতিও প্রায় ৩ মিটার বদলে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরবর্তী সময়ে রেকর্ড হওয়া ভূমিকম্পগুলো খুব শক্তিশালী ছিল না।


পুসান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কিম সিএনএনকে বলেন, এসব ভূমিকম্পের অধিকাংশের মাত্রা ছিল ২ থেকে ৩-এর মধ্যে। ভূমিকম্পগুলো ভূপৃষ্ঠের অগভীর স্তরে সংঘটিত হয়েছিল বলে মনে হচ্ছে।


উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক পরীক্ষা শুরু করার আগে ওই এলাকায় ভূ-কম্পনের মতো ঘটনা খুবই কম ছিল বলেও জানা যায়। কিম বলেন, ‘চীন ও কোরিয়ায় আমাদের ২ হাজার বছরেরও বেশি সময়ের ঐতিহাসিক রেকর্ড রয়েছে। প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে একটি ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়। আমি বলতে পারি না যে এখানে কোনো ভূমিকম্প হয় না, তবে এখানকার ভূমিকম্পের হার খুবই কম।’


গবেষকদের ধারণা, ভূমিকম্পের এই বৃদ্ধি ইঙ্গিত দিচ্ছে ২০১৭ সালের বিস্ফোরণের পর মাউন্ট মানতাপের নিচের ভূস্তর আগের অবস্থায় পুরোপুরি ফিরে আসেনি। পরীক্ষার পর অন্তত দুটি বিদ্যমান ভূতাত্ত্বিক ফাটল সক্রিয় হয়ে থাকতে পারে ধারণা বিজ্ঞানীদের।


কিমের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিস্ফোরণের ফলে পাহাড়ের ভেতরে আগে থেকে থাকা সুপ্ত ফাটলগুলো আবার সক্রিয় হয়েছে। একই সঙ্গে বিস্ফোরণে শিলায় নতুন ফাটল তৈরি হয়েছে এবং সেসব ফাটলে পানি জমেছে। এতে পাথরের ভেতরে ছিদ্রচাপ বেড়ে যায়, ফলে শিলাস্তরগুলো একে অপরের থেকে সরে যেতে শুরু করে। এর ফলেই একের পর এক ছোট ছোট ভূমিকম্প ঘটছে বলে ধারণা করছেন গবেষকেরা।