কফি দিনে কত কাপ খাওয়া নিরাপদ
সকালের ঘুম কাটাতে এক কাপ কফি, কাজের ফাঁকে আরেক কাপ এভাবেই অনেকের দিনে ৩-৪ কাপ কফি খাওয়া হয়ে যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দিনে কতটা কফি খেলে তা নিরাপদ থাকে? কফির মূল উপাদান ক্যাফেইন অতিরিক্ত পরিমাণে শরীরে গেলে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া কিংবা পেটের অস্বস্তির মতো সমস্যা হতে পারে। তাই শুধু কাপ গোনা নয়, দিনে মোট কতটা ক্যাফেইন গ্রহণ করছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
জানুন দিনে কত কাপ কফি নিরাপদ?
যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) বলছে, বেশিরভাগ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে দিনে ৪০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন সাধারণত নেতিবাচক প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত নয়। এফডিএ-এর হিসাবে, এটি প্রায় ২ থেকে ৩ কাপ ১২ আউন্সের (প্রায় ৩৫৫ মিলিলিটার) কফির সমান।
তবে এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সব কফিতে ক্যাফেইনের পরিমাণ এক নয়। একই আকারের এক কাপ কফিতেও ব্র্যান্ড, তৈরির পদ্ধতি ও কফির ধরন অনুযায়ী ক্যাফেইনের পরিমাণ যথেষ্ট আলাদা হতে পারে। এফডিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ১২ আউন্স সাধারণ তৈরি কফিতে প্রায় ১১৩ থেকে ২৪৭ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকতে পারে। ফলে বড় কাপ বা বেশি ঘন কফি পান করলে কয়েক কাপেই ৪০০ মিলিগ্রামের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া সম্ভব।
বেশি কফি খেলে কী হতে পারে?
ক্যাফেইন একটি স্টিমুলান্ট। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ করলে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা, হাত-পা কাঁপা, মাথাব্যথা, বমিভাব, পেটের অস্বস্তি এবং হৃদ্স্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারও ক্ষেত্রে উদ্বেগও বাড়তে পারে। তাই রাতে ঘুমাতে সমস্যা হলে বিকেল বা সন্ধ্যার পর কফি খাওয়ার অভ্যাসটিও বিবেচনা করা দরকার। একই সঙ্গে চা, কোলা, এনার্জি ড্রিংক, চকোলেট এবং কিছু ওষুধেও ক্যাফেইন থাকতে পারে। ফলে শুধু কফির কাপ হিসাব করলেই হবে না সারাদিনে সব উৎস মিলিয়ে মোট ক্যাফেইনের পরিমাণ দেখতে হবে।
সবার জন্য কি ৪০০ মিলিগ্রাম একই?
না। এফডিএ-ও বলছে, ক্যাফেইনের প্রভাব ব্যক্তি অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। শরীরের ওজন, কিছু শারীরিক সমস্যা, নিয়মিত খাওয়া ওষুধ এবং ব্যক্তিগত সংবেদনশীলতার ওপর এর প্রভাব নির্ভর করতে পারে। কারও ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম ক্যাফেইনেও অস্বস্তি হতে পারে। গর্ভাবস্থা, সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা বা স্তন্যদানকালীন সময়ে ক্যাফেইন কতটা গ্রহণ করা উচিত, তা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা ভালো। একইভাবে হৃদ্স্পন্দন, উচ্চ রক্তচাপ বা ক্যাফেইনে অস্বস্তির মতো সমস্যা থাকলে নিজের জন্য উপযুক্ত সীমা চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নেওয়া উচিত।
কফি মানেই ক্ষতিকর নয়
কফিকে সম্পূর্ণ ক্ষতিকর খাবার হিসেবে দেখারও কারণ নেই। এফডিএ-এর মতে, অধিকাংশ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে ক্যাফেইন থাকতে পারে। মূল বিষয় হলো পরিমাণ এবং ব্যক্তিগত সহনশীলতা। আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি ডিক্যাফ কফি মানেই পুরোপুরি ক্যাফেইনমুক্ত নয়। এফডিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ৮ আউন্স ডিক্যাফ কফিতেও সাধারণত ২ থেকে ১৫ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকতে পারে।
তাই সুস্থ অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য দিনে ২-৩ কাপ সাধারণ কফি সাধারণত নিরাপদ সীমার মধ্যে থাকতে পারে, তবে কফির আকার ও ক্যাফেইনের ঘনত্ব বিবেচনা করতে হবে। শরীরে অস্বস্তির লক্ষণ দেখা দিলে পরিমাণ কমানোই ভালো। আর ক্যাফেইনযুক্ত পণ্য হিসেবে বিশুদ্ধ বা অতিমাত্রায় ঘন ক্যাফেইন পাউডার বা তরল এড়িয়ে চলা উচিত এগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।