দুই মাসে রাজশাহীতে নারী-শিশু নির্যাতনের ২০ ঘটনা

20 incidents of violence against women and children in Rajshahi in two months
আবুল কালাম আজাদ ০১ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:৪৭ অপরাহ্ন সারা বাংলা
আবুল কালাম আজাদ ০১ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:৪৭ অপরাহ্ন
দুই মাসে রাজশাহীতে নারী-শিশু নির্যাতনের ২০ ঘটনা
প্রতীকী ছবি

রাজশাহী জেলা ও মহানগরীতে গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে নারী ও শিশু নির্যাতন, হত্যা, আত্মহত্যা, নিখোঁজ ও সহিংসতার অন্তত ২০টি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে যৌন নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা, হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার মতো গুরুতর ঘটনাও রয়েছে।


মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংস্থা ‘লেডিস অর্গানাইজেশন ফর সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার’ (লফস)-এর ডকুমেন্টেশন সেলের পর্যালোচনায় এ চিত্র উঠে এসেছে। স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

লফসের তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার পেছনে যৌতুক, পারিবারিক বিরোধ, পরকীয়া, প্রেমঘটিত দ্বন্দ্ব, আর্থিক সংকট ও পারিবারিক চাপের মতো কারণের উল্লেখ রয়েছে। 


প্রতিবেদনে বাঘার মনিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এবং কাটাখালীর কাকাইলকাটি গ্রামে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। 

এ ছাড়া পবায় শাশুড়িকে ধর্ষণের অভিযোগ, রুয়েটের এক ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে অপহরণের অভিযোগও রয়েছে।


হত্যা ও গুরুতর সহিংসতার ঘটনাগুলোর মধ্যে বাঘার খোর্দ্দ বাউসায় জুসি খাতুনকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, মোহনপুরের সরদারপাড়ায় জান্নাতুন (৫৫) হত্যাকাণ্ড এবং একই উপজেলায় ফাহিমা (৪২) নামে এক নারীর হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন করার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।


আত্মহত্যার ঘটনাগুলোর মধ্যে এসএসসিতে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় কারিনা পাল, পারিবারিক শাসনে অভিমান করে পুঠিয়ার শাওন (১৬), তানোরের হাসিনা বিবি (৩৫), বাঘার রিতা খাতুন (৩০) ও মতিহারের স্বর্ণা খাতুনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে।


এ ছাড়া মোহনপুরে নুর জাহান (৬৫) নামে এক বৃদ্ধাকে নির্যাতন, তানোরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ এবং বাঘায় আর্থিক সংকটে এক গৃহবধূর বিষপানের চেষ্টার ঘটনাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। 


অন্যদিকে নগরীর গোরাঙ্গা এলাকা থেকে মাহিম নামে এক শিশু, পবার কর্ণহার থেকে আতিক বিশ্বাস রাব্বি (১৩) এবং বাগমারার যোগীপাড়া থেকে দুই নারী নিখোঁজ হওয়ার তথ্যও এতে রয়েছে।


লফসের নির্বাহী পরিচালক শাহানাজ পারভীন বলেন, সংবাদপত্রে প্রকাশিত ঘটনার বাইরেও নারী ও শিশু নির্যাতনের অনেক ঘটনা অপ্রকাশিত থেকে যায়। প্রকাশিত ঘটনাগুলোর পরিসংখ্যানও উদ্বেগজনক। প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের আইন অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।