প্রতিদিন কয়টি আমন্ড খাওয়া স্বাস্থ্যকর

How many almonds is healthy to eat per day
অনলাইন ডেস্ক ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৪২ পূর্বাহ্ন লাইফস্টাইল
অনলাইন ডেস্ক ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৪২ পূর্বাহ্ন
প্রতিদিন কয়টি আমন্ড খাওয়া স্বাস্থ্যকর
--সংগৃহীত ছবি

অনেকে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিংবা সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় নানা ধরনের বাদাম রাখেন। কাজু, আখরোটের পাশাপাশি আমন্ড বা কাঠবাদামও বেশ জনপ্রিয়। এই বাদামে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন ই, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালশিয়ামসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। তবে প্রতিদিন কতগুলো আমন্ড খাওয়া উচিত? বেশি খেলেই কি বেশি উপকার পাওয়া যায়? বিশেষ করে যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।


প্রতিদিন কতগুলো আমন্ড খাবেন

সাধারণভাবে এক মুঠো আমন্ড, অর্থাৎ প্রায় ১৫ থেকে ২০টি আমন্ড খাওয়া যেতে পারে। তবে তবে প্রত্যেকের শরীরের প্রয়োজন, বয়স, শারীরিক পরিশ্রম এবং দৈনিক ক্যালরির চাহিদা এক নয়। তাই প্রতিদিন নিজের খাদ্যাভ্যাস ও প্রয়োজন অনুযায়ী কম পরিমাণেও আমন্ড খাওয়াই উপকারী।


বিশেষ করে যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদের বাদামের পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। আমন্ডে থাকা ফ্যাটের বড় অংশ স্বাস্থ্যকর হলেও এতে ক্যালরির পরিমাণ বেশি। তাই পুষ্টিকর খাবার বলে ইচ্ছেমতো আমন্ড খাওয়া ঠিক নয়। বরং দৈনিক খাদ্যতালিকার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।


আমন্ড কেন উপকারী

আমন্ডে থাকা ভিটামিন ই শরীরে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি এতে রয়েছে মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, প্রোটিন, ফাইবার ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান। এসব পুষ্টি উপাদান স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে। বিভিন্ন গবেষণায় নিয়মিত বাদাম খাওয়ার সঙ্গে হৃদস্বাস্থ্যের উন্নতি এবং ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল কমার সম্পর্কও দেখা গেছে।


আমন্ডে ফ্যাট, প্রোটিন ও ফাইবারের মতো পুষ্টি উপাদান থাকায় অল্প পরিমাণ খাওয়ার পরও দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকার অনুভূতি হতে পারে। ফলে বারবার ক্ষুধা পাওয়া বা অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা কমাতে এটি সহায়ক হতে পারে। বিস্কুট, চিপস কিংবা অতিরিক্ত মিষ্টির বদলে এক মুঠো আমন্ড বেছে নেওয়া তাই ভালো অভ্যাস হতে পারে।


আমন্ডের ফ্যাটের বড় অংশই আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট। খাদ্যতালিকায় স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিবর্তে বাদামের মতো স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের উৎস রাখলে হৃদস্বাস্থ্যের উপকার হতে পারে। তবে শুধু আমন্ড খেলেই হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যাবে, এমন দাবি করা ঠিক নয়। সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা ও জীবনযাপনের ধরনও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।


কাঁচা, ভেজানো নাকি রোস্টেড আমন্ড খাবেন

অনেকে সকালে পানিতে ভিজিয়ে রাখা আমন্ড খান। আবার কেউ কাঁচা বা ড্রাই-রোস্টেড আমন্ড পছন্দ করেন। তবে আমন্ড ভিজিয়ে খাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। কাঁচা কিংবা ড্রাই-রোস্টেড আমন্ডও স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।


আমন্ড কেনার সময় অতিরিক্ত লবণ, চিনি বা অন্যান্য উপাদান মেশানো রয়েছে কি না, তা খেয়াল রাখা ভালো। বিশেষ করে যারা ওজন নিয়ন্ত্রণ করছেন বা লবণ গ্রহণ কমাতে চাইছেন, তাদের ক্ষেত্রে সাধারণ কাঁচা বা লবণ ছাড়া রোস্টেড আমন্ড ভালো বিকল্প হতে পারে।

কারা আমন্ড খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন

যাদের বাদামে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের আমন্ড এড়িয়ে চলতে হবে। অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া কখনো গুরুতরও হতে পারে। এছাড়া যারা দৈনিক ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ করছেন, তাদেরও পরিমাণ মেপে খাওয়া উচিত। কারণ স্বাস্থ্যকর খাবার হলেও অতিরিক্ত আমন্ড খেলে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করা হয়ে যেতে পারে।


আমন্ড পুষ্টিকর খাবার হলেও বেশি খেলেই বেশি উপকার পাওয়া যাবে, এমন নয়। নিয়মিত ও পরিমিত আমন্ড খাওয়ার পাশাপাশি সুষম খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান এবং শরীরচর্চার অভ্যাস বজায় রাখাই সুস্থ থাকার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।


সূত্র: মেডিসিন নিট, ভেরিওয়েল হেলথ