পশ্চিমাঞ্চল রেলে ডিউটি পাসে কোটি টাকার অনিয়ম

Duty pass irregularities worth crores of taka
আবুল কালাম আজাদ, বিশেষ প্রতিনিধি :- ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ০২:৪৮ অপরাহ্ন সারা বাংলা
আবুল কালাম আজাদ, বিশেষ প্রতিনিধি :- ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ০২:৪৮ অপরাহ্ন
পশ্চিমাঞ্চল রেলে  ডিউটি পাসে কোটি টাকার  অনিয়ম
বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে ডিউটি কার্ড পাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

​বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে ডিউটি কার্ড পাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। টিকিট বিক্রির সমন্বয়ক প্রতিষ্ঠান 'সহজ'-এর সার্ভারে সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত চারটি স্টেশনের নামে থাকা কার্ড ব্যবহার করে ৪ হাজার ৭১৬ বার ডিউটি পাস ইস্যু করা হয়েছে। 

এসব পাসের বিপরীতে নথিভুক্ত অর্থের পরিমাণ ১ কোটি ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯ টাকা।​নিয়ম বহির্ভূতভাবে এত বিপুলসংখ্যক পাস ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে রেলওয়ের অভ্যন্তরে চরম অসন্তোষ ও প্রশ্ন উঠেছে।

​ডিউটি কার্ড পাস ব্যবহারে অনিয়মের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে গত ১৩ জুলাই পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপকের (সিসিএম) পক্ষে উপপ্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক (ডেপুটি সিসিএম) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার (এফএঅ্যান্ডসিএও, পশ্চিম) কাছে একটি চিঠি দেন। 

তবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশাসনিক অনিয়মের বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

​সহজের সার্ভার অনুযায়ী, চারটি স্টেশনের নির্দিষ্ট ডিউটি কার্ড ব্যবহারের চিত্রনিচে তুলে ধরা হলো:

​দিনাজপুর, টিআই/এ দিনাজপুরের কার্ড (পাস নম্বর: সিপি ০৩৪১৬৭) ব্যবহার করে ১ হাজার ৯৫০ বার ডিউটি পাস ইস্যু করা হয়, যার মান ৪৪ লাখ ৮০ ৩০০ টাকা।

​রাজশাহী, টিআই/এ রাজশাহীর কার্ডে (পাস নম্বর: সিপি ০৩৪১৬৮) ১ হাজার ৫০০ বার পাস ব্যবহারে অর্থের পরিমাণ ৩৫ লাখ ৭ হাজার ৮১৩ টাকা।

​ঈশ্বরদী, টিআই/এ ঈশ্বরদীর কার্ড (পাস নম্বর: সিপি ০৩৪১৬৯) ব্যবহার করে ৯৬৫ বার পাস ইস্যু করা হয়, যার অর্থমূল্য ১৯ লাখ ৩৬ ১৪৪ টাকা। কার্ডটি টিআই/এ জিএম আবুল কালাম আজাদের নামে নিবন্ধিত।

​পার্বতীপুর, টিআই/এ পার্বতীপুরের কার্ডে (পাস নম্বর: সিপি ০৩৪১৬১) ৩০১ বার ডিউটি পাস ইস্যু করা হয়, যার পরিমাণ ৪ লাখ ১৪ ৮৪২ টাকা।


​চারটি কার্ডে নথিভুক্ত মোট অর্থের হিসাব কীভাবে নির্ধারিত হয়েছে, পাসগুলো বিধি অনুযায়ী অনুমোদিত ও ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা নিয়ে হিসাব শাখা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অডিট করার জোর দাবি উঠেছে।


​এ বিষয়ে উপপ্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক (ডেপুটি সিসিএম) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ওটিপি (OTP) বা ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড ব্যবস্থা না থাকায় ডিউটি পাসের অপব্যবহার হচ্ছিল—বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর তিনি তা খতিয়ে দেখেন। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি লিখিতভাবে প্রধান অর্থ উপদেষ্টা দপ্তরে পাঠান।


​তিনি আরও জানান, পাসের অবৈধ ব্যবহার বন্ধে বর্তমানে মোবাইল রেজিস্ট্রেশন ওটিপি সিস্টেম চালু করা হয়েছে। ফলে অবৈধ পাসের ব্যবহার এখন শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। পুরো বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।


​এদিকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী রেলস্টেশনের কয়েকজন বুকিং সহকারী টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটি সরকারি ডিউটি পাসের সুবিধা ব্যবহার করে কিংবা বুকিং সহকারীদের সহায়তায় টিকিট সংগ্রহ করত।


​এ বিষয়ে জানতে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের (রাজশাহী) মহাব্যবস্থাপক আহম্মেদ হোসেন মাসুম,প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ ভূইয়া এবং প্রধান অর্থ উপদেষ্টার সরকারি মোবাইল নাম্বারে একাদিকবার কল করলেও তারা কেউ কল রিসিভ করেন নাই। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি ।

​রেলওয়ের সুনাম ও রাজস্ব রক্ষায় সার্ভারের মূল রেকর্ড, অনুমোদিত নথিপত্র ও সুবিধাভোগীদের তথ্য নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।