জ্বালানি তেলের বাজারে ফের অস্থিরতা, দাম ১১০ ডলার

The price is 110 dollars
অনলাইন ডেস্ক ২১ অক্টোবর ২০২৬ ১২:১৩ অপরাহ্ন শীর্ষ খবর
অনলাইন ডেস্ক ২১ অক্টোবর ২০২৬ ১২:১৩ অপরাহ্ন
জ্বালানি তেলের বাজারে ফের অস্থিরতা, দাম ১১০ ডলার
--সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে বিশ্ববাজারে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১১০ ডলারে পৌঁছেছে। লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি এবং সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোয় হামলার আশঙ্কায় গত তিন থেকে চার দিন ধরে তেলের দাম বাড়তির দিকে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ২১ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে ওঠে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও এক ডলারের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ ডলারে পৌঁছায়।

এরআগেও মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে পৌঁছায়। গত তিন থেকে চার দিন ধরে তেলের দাম বাড়তির দিকে। গত সপ্তাহেও ব্রেন্টের দাম ১১০ ডলার ছাড়িয়েছিল। পরে তা কমে ১০৬ থেকে ১০৭ ডলারের মধ্যে নেমে আসে। মে মাসের পর থেকে ব্রেন্টের দাম এ পর্যায়ে ওঠেনি।

গত ১৯ মে তেলটির দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ১১১ দশমিক ২৮ ডলার। অয়েলপ্রাইসডটকমের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ৮১ ডলারে দাঁড়ায়।

অন্যদিকে, আরেকটি আন্তর্জাতিক বাজার প্রতিবেদনে ওই সময় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০৯ দশমিক ৬৮ ডলার এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৯৮ দশমিক ৫৫ ডলার উল্লেখ করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রেন্টের দাম পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বাজারে লেনদেন চলমান থাকায় বিভিন্ন সময়ে দামের এই পার্থক্য দেখা গেছে।

তেলের বাজারে নতুন করে চাপ তৈরির অন্যতম কারণ হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা। জ্বালানি বাজারবিষয়ক তথ্যপ্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্যের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে অন্তত ১৮টি ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে তেল পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী আবারও সৌদি আরবে হামলা চালিয়েছে। জ্বালানি অবকাঠামোর পাশাপাশি বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনাও তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাতের এই নতুন উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এতে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে অস্থিরতা আরও বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে হামলা অব্যাহত থাকলে এবং সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলার ঝুঁকি বাড়লে তেলের সরবরাহ আরও ব্যাহত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়তি চাপের মুখে থাকতে পারে।


সূত্র : আল-জাজিরা