দেশে ফিরলেন নোবেলজয়ী মাচাদো
১০ মাসেরও বেশি সময় নির্বাসনে থাকার পর নিজ দেশে ফিরেছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী ও শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। তবে তিনি এমন এক রাজনৈতিক পেক্ষাপটে দেশে ফিরেছেন, যা তার অনুপস্থিতিতেই নতুন রূপ দিয়েছে তার অন্যতম প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্র।
রোববার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) মাচাদো লেখেন, ‘আমি ফিরে এসেছি। আপনাদের সঙ্গে আছি।’ এর কিছুক্ষণ পরই বিরোধী দলের অন্য সদস্যরা বিস্তারিত কিছু না জানিয়েই তার পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বর্তমানে নির্বাসনে থাকা ভেনেজুয়েলার সাবেক বিরোধী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী এডমান্ডো গঞ্জালেজ উরুতিয়া এই প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘ভেনেজুয়েলাবাসীর জন্য আজ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। আমাদের সার্বভৌম কণ্ঠস্বর আবার ফিরে এসেছে এই প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব ও নির্দেশনার জন্য!’ খুব শিগগিরই নিজেও দেশে ফিরবেন বলে জানান তিনি।
রোববার লারা রাজ্যের সান্তা রোসা চার্চে অনুসারীদের সঙ্গে মাচাদোর সাক্ষাতের কিছু ছবি শেয়ার করে বিরোধী দল।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মাচাদোর ফেরার বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না, তবে তিনি তার নিরাপত্তা নিয়ে আশাবাদী।
সিএনএনের প্রতিনিধি জুলিয়া বেনব্রুক মাচাদোর অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না, তবে তিনি অত্যন্ত ভদ্র একজন নারী। তিনি আমাকে তার নোবেল পুরস্কারটি উপহার দিয়েছেন, তাই আমি অন্য কিছু বলি কী করে? আমি আশা করি তিনি নিরাপদে আছেন।’
গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করতে গত ডিসেম্বরে নরওয়ে যান মাচাদো। এরপর আর তিনি দেশে ফিরতে পারেননি।
তিনি দেশ ছাড়ার এক মাস পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এরপর থেকেই একটি গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও রাজনৈতিক সমঝোতার লক্ষ্যে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে কাজ শুরু করে ওয়াশিংটন। তবে এই আলোচনায় বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট বিরোধী নেতাকে রাখা হলেও মাচাদো এবং গঞ্জালেস উরুতিয়াকে বাইরে রাখা হয়।
সরকারের সঙ্গে বিরোধী জোটের আলোচনার নেতৃত্ব দেওয়া দিনোরা ফিগুয়েরা জানান, মাদুরোর পতন এবং চলমান সমঝোতা আলোচনার সুফল হিসেবেই মাচাদো দেশে ফিরতে পেরেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আশা করে ভেনেজুয়েলার রাজনীতির সব পক্ষের স্বাধীনতা ও অধিকারের ধারাবাহিক মর্যাদা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আমরা আশা করি, সব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এই আলোচনাকে সমর্থন করবেন। কারণ গত ত্রিশ বছরের মধ্যে এটিই ভেনেজুয়েলার সামনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করে দীর্ঘস্থায়ী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে বড় সুযোগ।’
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বারকুইসিমেটো শহরে শত শত সমর্থক মাচাদোর গাড়ি ঘিরে ধরেন। তারা ভেনেজুয়েলার জাতীয় পতাকা নাড়িয়ে ‘মুক্তি, মুক্তি’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। একটি গাড়ির ছাদে উঠে ভিড়ের দিকে হাত নাড়ান মাচাদো, সে সময় অনেকে তার সঙ্গে জাতীয় সংগীতে গলা মেলান।