বদলগাছী হাসপাতালে রোগীর সেবার বদলে সহকর্মীর সঙ্গে ‘মারামারি’, তদন্ত কমিটি

'Fighting' with colleagues instead of serving patients
সৈকত সোবহান, বদলগাছী (নওগাঁ): ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ০৪:৪৩ অপরাহ্ন সারা বাংলা
সৈকত সোবহান, বদলগাছী (নওগাঁ): ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ০৪:৪৩ অপরাহ্ন
বদলগাছী হাসপাতালে  রোগীর সেবার বদলে সহকর্মীর সঙ্গে ‘মারামারি’, তদন্ত কমিটি
রোগীদের সেবার জায়গায় সহকর্মীর সঙ্গে বিরোধ, তিন দিন ধরে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী

হাসপাতালে রোগীদের সেবা দেওয়ার কথা যাঁদের, তাঁদের বিরুদ্ধেই এবার সহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। নাইট ডিউটির রোস্টার নিয়ে বিরোধের জেরে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক সিনিয়র স্টাফ নার্সকে মারধর করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে দুই নার্সের বিরুদ্ধে।


 ঘটনার তিন দিন পরও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে এখনো নেওয়া হয়নি দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা।



ঘটনাটি গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পাশে ঘটে। ভুক্তভোগী নার্স শাহানাজ পারভিন। অভিযুক্ত দুই নার্স হলেন শিল্পী আক্তার ও তাঁর বোন লিপি আক্তার। তাঁরা দুজনই ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত।


হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মাসের শুরুতে নাইট ডিউটির রোস্টার নিয়ে শাহানাজ পারভিন ও শিল্পী আক্তারের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে ঘটনার দিন শিল্পীর বোন লিপি বাসা থেকে হাসপাতালে আসেন। পরে জরুরি বিভাগের পাশে দায়িত্ব পালনরত শাহানাজকে দুই বোন মিলে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। শাহানাজের চিৎকার শুনে অন্যরা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


ভুক্তভোগী শাহানাজ পারভিন বলেন, নাইট ডিউটি আগে করা নিয়ে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে লিপি বাসা থেকে এসে বোনের পক্ষ নিয়ে দুজন মিলে তাঁকে মারধর করেন। তাঁর চোখ-মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান শাহানাজ।


তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিল্পী ও লিপি আক্তার। তাঁদের দাবি, শাহানাজ প্রায়ই তাঁদের কটাক্ষ করে কথা বলেন ও গালাগাল করেন। ঘটনার দিন রোস্টার নিয়ে শিল্পীকে কটাক্ষ করায় তাঁরা এর কারণ জানতে গিয়েছিলেন। এ সময় শাহানাজই তাঁদের ওপর আক্রমণ করেন বলে দাবি করেন তাঁরা।


অভিযুক্ত দুই নার্সের আরও অভিযোগ, শিল্পীর হাত থেকে এক ভরি ওজনের দুটি সোনার বালা এবং লিপির আট আনা ওজনের একটি সোনার চেন ছিনিয়ে নিয়েছেন শাহানাজ। এ ঘটনায় তাঁরাও থানায় অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান তাঁরা।


ঘটনার সময় দায়িত্বে ছিলেন নার্স শিরিন আক্তার। তিনি বলেন, মারামারির সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। পরে বিষয়টি শুনেছেন। এমন ঘটনায় হাসপাতালের সবাই বিব্রত। তাঁরা এ ঘটনার নিন্দা জানান।


বদলগাছী থানার পরিদর্শক (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।


উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কানিস ফারহানা বলেন, বিষয়টি তিনি পরে জেনেছেন। এ ঘটনায় হাসপাতালের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. আসাদুজ্জামান নাহিদকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।


তদন্ত কমিটির প্রধান ও আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার আসাদুজ্জামান নাহিদ বলেন, তদন্ত চলমান রয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন তৈরি করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।


হাসপাতালের ভেতরে সহকর্মীকে মারধরের অভিযোগে কর্মপরিবেশ ও শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নাইট ডিউটির রোস্টার নিয়ে বিরোধের পর এখন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের অপেক্ষা। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে তদন্তের ফল পর্যন্ত।