রাজশাহী- ২ আসনের নির্বাচনী হালচাল

প্রfর্থী নিয়ে বিএনপির মতভেদ , গনসংযোগে তৎপর জামায়াত

Rajshahi- 2 constituency election news
আবুল কালাম আজাদ,রাজশাহী ০২ মে ২০২৫ ০৩:৩৮ অপরাহ্ন নির্বাচিত সংবাদ
আবুল কালাম আজাদ,রাজশাহী ০২ মে ২০২৫ ০৩:৩৮ অপরাহ্ন
প্রfর্থী নিয়ে বিএনপির মতভেদ , গনসংযোগে তৎপর জামায়াত
রাজশাহী সদর -২ আসনকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক উত্তাপ।

রাজশাহী সদর -২ আসনকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক উত্তাপ। এই ঐতিহাসিক আসনটি একসময় বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। স্বাধীনতার পর বেশ কয়েকবার বিএনপির প্রার্থীরা এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।

এই গুরুত্বপূর্ণ আসনটিতে বিএনপির দুজন হেভিওয়েট মনোনয়ন প্রাথী।একজন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু। তিনি নিয়মিত গণসংযোগ, সংগঠনিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে  সামনে নিয়ে আসছেন।

অন্যদিকে রয়েছেন, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।

তবে নগর বিএনপি নেতাদের  মিনুর পাশে  রয়েছেন বলে জানা গেছে। 

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজশাহীতে বিএনপি,জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের নেতারা সরব হয়ে উঠেছেন। যদিও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তার শরিকদের তৎপরতা এখনো দৃশ্যমান নয়।

জামায়াতে ইসলামী:-

 বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহীর পাঁচটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও রাজশাহী সদর-২ আসনে এখনো চূড়ান্ত করেনি। তবে প্রার্থী চুড়ান্ত না করলেও দলটির সাংগঠনিক তৎপরতা ব্যাপক। থানা, ওয়ার্ড ও মহল্লা পর্যায়ে নিয়মিত গণসংযোগ করছে দলটির নেতারা।

মহানগর জামায়াতে ইসলামী সূত্র বলছে, প্রার্থী বাছাইয়ের জরিপ শেষ হয়েছে গত ফেব্রুয়ারিতে। সিটি করপোরেশন ও সদর আসনের প্রার্থী এক সঙ্গে ঘোষণা হবে। এ কারণে বিলম্ব হচ্ছে।

তবে প্রার্থী তালিকায় আলোচনায় রয়েছেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির এ্যডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম ও মহানগর জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি এমাজ উদ্দিন মণ্ডলসহ পাঁচজন। আলোচনায় থাকা অন্যরা হলেন, মহানগর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাহবুব আহসান বুলবুল, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শাহাদাৎ হোসাইন ও প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন।

আশরাফুল আলম ইমন বলেন, রাজশাহীর পাঁচটি আসনের প্রার্থী ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু রাজশাহী-২ আসনে এখনো চুড়ান্ত হয়নি। এই আসনে প্রার্থী কে হবেন তা ঠিক করবেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

তিনি আরও বলেন, রাজশাহীর সব আসনে দলীয়ভাবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি কয়েক মাস আগে থেকেই শুরু করেছেন আমাদের দলের নেতাকর্মীরা। রাজশাহীর ছয়টি আসন ছাড়াও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও আমরা দলীয়ভাবে অংশগ্রহণ করব। এখন পর্যন্ত এমন সিদ্ধান্তই আছে।

বিএনপি:-

অন্যদিকে বিএনপি এর দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু। তিনি নিয়মিত গণসংযোগ, সংগঠনিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে আবারও সামনে নিয়ে আসছেন।

সূত্রমতে, গত ৫ আগস্টের পর থেকে মিনু রাজশাহীতে দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও মহানগর বিএনপির বর্তমান কমিটিতে তার অনুসারীরা স্থান না পাওয়ায় তিনি কিছুটা কোণঠাসা। তা সত্ত্বেও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনসহ বেশ কিছু সিনিয়র নেতা এখনো মিনুর পাশে রয়েছেন। তার আয়োজিত কর্মসূচীগুলোতে নেতাকর্মীর উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো।

অপরদিকে, বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা রুহুল কবীর রিজভীও রাজশাহী-২ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে সক্রিয় হয়েছেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী রাজশাহীর স্থানীয় না হলেও তার রাজনৈকি জীবনের একটা বড় সময় কেটেছে রাজশাহীতে। ফলে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা ও সদস্যসচিব মামুন অর রশিদসহ স্থানীয় বেশ কিছু প্রভাবশালী নেতা তার পাশে রয়েছেন।

এদিকে, বিএনপির প্রভাবশালী দুই নেতা মিনু-রিজভী ছাড়াও এ আসনে এবার দলীয় মনোনয়ন চাইবেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশাও। রুহুল কবীর রিজভীর পাশে থাকলেও মনোনয়ন চাইবেন বলে জানান তিনি।

মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মামুন অর রশিদ বলেন, ‘‘বিএনপি বড় দল। এখানে অনেক যোগ্য নেতা আছেন। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, সবাই তার পক্ষেই কাজ করবেন।’’

জাতীয় পার্টি:-

এদিকে, জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও মহানগর আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম স্বপনের নাম সামনে এসেছে। গত নির্বাচনেও তিনি এ আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন। এবারও তিনি প্রার্থী হবেন।

সাইফুল ইসলাম স্বপন বলেন, আমি রাজশাহী-২ আসন থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে দলীয়ভাবে কার্যক্রম শুরু করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) রাজশাহী মহানগরের আহবায়ক সরদার জুয়েল হোসেন এবার নির্বাচন করবেন। ইতোমধ্যেই তিনি সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধিসহ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

অপরদিকে, নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাজনীতির মাঠে সরব রয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। এ দল থেকে এবার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নগর সহসভাপতি আলহাজ¦ ফাইসাল হোসেন মনির নাম শোনা যাচ্ছে। তিনি গত নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

রাজশাহী-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন। স্বাধীনতার পর এ আসনে বিএনপি তিনবার, জাতীয় পার্টি দুইবার, ওয়ার্কার্স পার্টি তিনবার, জাসদ একবার এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

এখন দেখার বিষয় আগামী নির্বাচনে কোন দল বা জোট রাজশাহী-২ এর ‘ভিআইপি’ আসনটি নিজেদের দখলে রাখতে পারে; তবে এখন আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছে কে হবেন বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী- মিনু না রিজভী।