ইমরান খান ও বুশরার বিয়ে অবৈধ
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও বুশরা বিবির বিয়েকে ইসলামিক আইন অনুযায়ী অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন পাকিস্তানের একটি আদালত। আর এই অপরাধে ইমরান-বুশরাকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সিনিয়র সিভিল জজ কুদরতুল্লাহ আদিয়ালা কারাগারে এ রায় ঘোষণা করেন।
বুশরা বিবির সাবেক স্বামী খাওয়ার ফরিদ মানেকার ইমরান-বুশরার বিয়েকে 'অনৈসলামিক ও অবৈধ' উল্লেখ করে গত বছরের ২৫ নভেম্বর মামলা করেছিলেন। তার দাবি, বুশরা বিবির সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদের পর ইদ্দত (নির্দিষ্ট সময়) চলাকালীন ইমরান খানের সঙ্গে বিয়ে হয়ে যায় বুশরার।
সাব-জেল হিসেবে ঘোষণা করা বানিগালার বাড়ি থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয় বুশরা বিবিকে। গতকাল কারাগার প্রাঙ্গণে প্রায় ১৪ ঘণ্টা মামলার শুনানি হয়। অভিযোগকারীর আইনজীবী রাজা রিজওয়ান আব্বাসি, অভিযুক্তের আইনজীবী সালমান আকরাম রাজা এবং বুশরা বিবির আইনজীবী উসমান গুলও গতকাল তাদের চূড়ান্ত যুক্তি দেন।
এর আগে মামলায় চার সাক্ষীর দেওয়া জবানবন্দি শেষ হয়েছে। ৩৪২ ধারায় ইমরান খান ও বুশরা বিবির বক্তব্যও রেকর্ড করা হয়েছে।
মেনাকার অভিযোগ, তার শান্তিপূর্ণ বৈবাহিক জীবনে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে ইমরান খান অনৈতিক আকাঙ্ক্ষা হাসিল করেছেন। এতে তিনি এবং তার পরিবার কলঙ্কিত হয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ইমরান খান তার পুরো জীবন নষ্ট করে দিয়েছেন।
২০১৮ সালে বুশরা বিবির সঙ্গে ইমরান খানের বিয়ে হয়। ইমরানের প্রথম স্ত্রী ছিলেন জেমিমা গোল্ডস্মিথ। তার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ইমরান রেহাম নায়েরকে বিয়ে করেন। এক বছরের মধ্যে রেহামের সঙ্গে ইমরানের বিচ্ছেদ হয়। ইমরানের তৃতীয় স্ত্রী বুশরা বিবি খুব কম জনসম্মুখে আসেন। তিনি হিজাব পরিধান করেন ও মুখ ঢেকে রাখেন।
এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি তোশাখানা দুর্নীতির মামলায় ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৪ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। এরপরই বুশরা বিবিকে গ্রেপ্তার করে আদিয়ালা কারাগারে নেওয়া হয় এবং পরে ইমরানের বাসভবন বানিগালায় স্থানান্তর করা হয়। এ ছাড়া, তারবার্তা মামলায় ৩০ জানুয়ারি ইমরান খান ও দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরেশির ১০ বছর কারাদণ্ড হয়েছে।
এদিকে, পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। তার মাত্র কয়েকদিন আগে ইমরানের বিরুদ্ধে এসব রায় দিলেন পাকিস্তানি আদালত। ব্যাপক চাপের মধ্যেও নির্বাচনী প্রতীক ছাড়াই এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় ইমরান খানকে। এরপর তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে শতাধিক মামলা দায়ের হয়।