শেখ হাসিনা-কামালের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

Full verdict on death sentence of Sheikh Hasina-Kamal published
অনলাইন ডেস্ক ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০২:৪০ অপরাহ্ন শীর্ষ খবর
অনলাইন ডেস্ক ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০২:৪০ অপরাহ্ন
শেখ হাসিনা-কামালের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
সংগৃহীত ছবি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জুলাই-আগস্টের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ৪৫৭ পৃষ্ঠার এই রায়টি প্রকাশিত হয়। 

এর আগে গত ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের পাশাপাশি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশের দেন। রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাইয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগের ভিত্তিতে দুটি সুনির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে অপরাধের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। 

অভিযোগ-১ (উসকানি ও প্ররোচনা)— ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ বলে সম্বোধন করে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের ফাঁসি দেওয়ার নির্দেশ ও প্ররোচনা প্রমাণিত হয়েছে। যার চূড়ান্ত ফল হিসেবে রংপুরে আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ। এই অভিযোগে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। 

অভিযোগ-২ (সরাসরি হত্যার নির্দেশ)— ১৮ জুলাই শেখ হাসিনার সঙ্গে সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপস ও হাসানুল হক ইনুর কথোপকথনে ড্রোনের মাধ্যমে অবস্থান নির্ণয় করে হেলিকপ্টার ও মারণাস্ত্র ব্যবহার করে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর ফলে ৫ আগস্ট চানখারপুলে ৬ জন এবং আশুলিয়ায় ৬ জনকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো নৃসংস ঘটনা ঘটে। এই অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনা ও কামালকে মৃত্যুদণ্ড (ফাঁসি) প্রদান করা হয়।

রায়ে আদালত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, দণ্ডিতদের দেশে থাকা সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সরকার বাজেয়াপ্ত করবে। এই অর্থ ও সম্পদ জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।