অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধি হবে ৪.৬ শতাংশ : বিশ্বব্যাংক

The World Bank
অনলাইন ডেস্ক ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ০৬:৫৫ অপরাহ্ন অর্থনীতি
অনলাইন ডেস্ক ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ০৬:৫৫ অপরাহ্ন
অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধি হবে ৪.৬ শতাংশ : বিশ্বব্যাংক
সংগৃহীত ছবি

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। তবে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি আরও বেড়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টাস’ -এর জানুয়ারি সংস্করণে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

বিশ্বব্যাংক বলছে, মানুষের ভোগ ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কমে আসায় অর্থনীতির গতি ফিরবে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের শুরুতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমবে। এর ফলে নতুন সরকার এসে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে পারবে, যা দেশের শিল্প খাতকে শক্তিশালী করবে। এসব প্রত্যাশার ওপর ভিত্তি করেই প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে ইতিবাচক পূর্বাভাসের পাশাপাশি কিছু ঝুঁকির কথাও বলা হয়েছে। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে— বর্তমানে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। এটি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি কঠোর করায় ঋণের প্রবাহ কমেছে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে বাধা দিচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং তবে সরকারি খরচ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ বাড়লে এই চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হবে ভুটানে (৭.৩%)। অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে— ভারতে ৬.৫ শতাংশ, বাংলাদেশে ৪.৬ শতাংশ, মালদ্বীপে ৩.৯ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৩.৫ শতাংশ এবং নেপালে ২.১ শতাংশ। তবে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস প্রতিবেদনে দেয়নি বিশ্বব্যাংক।

এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জিডিপি প্রবৃদ্ধির একটি সাময়িক হিসাব প্রকাশ করেছে। বিবিএসের তথ্যমতে, এই তিন মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪.৫ শতাংশ। উল্লেখ্য, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ২.৫৮ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ২.৬ শতাংশ হতে পারে এবং ২০২৭ সালে তা ২.৭ শতাংশে দাঁড়াবে। তবে ২০২৬ সাল নাগাদ বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি কমে ২.৬ শতাংশে নামতে পারে। আগামী এক দশকে বিশ্বে প্রায় ১২০ কোটি তরুণ কর্মক্ষম বয়সে পদার্পণ করবে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল ও মানব পুঁজি শক্তিশালী করা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।