পবা-মোহনপুর আসনের বিএনপি প্রার্থী মিলনের সাথে বাপা জেলা ও পবা উপজেলা নের্তৃবৃন্দের মতবিনিময়
কেন্দ্রীয় কর্মসুচির অংশ হিসেবে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়সমূহ দলের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্তিকরণ করতে পবা-মোহনপুর আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন এর সাথে মতবিনিময় শেষে স্মারকলিপি তুলে দেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) রাজশাহী জেলা ও পবা উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য বাংলাদেশের প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশে বায়ু দূষণ, কঠিন বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও নিষ্কাশন, জলাশয় ধ্বংসকারী ভরল বর্জ্যের নিষ্কাশন, নদনদীর অবক্ষয় ও দখল, জলাবদ্ধতার নিরসন, উপকূল রক্ষা, ভারতের কাছ থেকে নদনদীর ন্যায্য হিস্যা আদায়, তিস্তা রক্ষায় দেশীয় পরিকল্পনা গ্রহণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানী, বনাঞ্চল রক্ষা, পরিকল্পিত নগরায়ন ও যানজটসহ বিভিন্ন সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে। পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ুঝুঁকি কমাতে না পারলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। তৃনমূলের প্রস্তাবনা ও সুপারিশ সম্মেলনের মাধ্যমে যৌথভাবে এসব তথ্য সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন)। আর এসব সমস্যা সমাধানে সারাদেশে রাজনৈতিক দলের দলীয় নির্বাচনী ইশতেহারে এবং প্রার্থীদের এলাকার জলবায়ু ও পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয়সমূহ নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্তিকরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, ‘রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকার ব্যবহৃত অপরিশোধিত বর্জ্য পানি ড্রেনের মাধ্যমে বারনই নদীতে পড়ে পরিবেশ দূষণ করছে। পরিবেশ রক্ষায় বারনই নদী ও বিভিন্ন খাল সংস্কার এখন অপরিহার্য। নির্বাচিত হলে এ অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনসহ পানি পরিশোধনের ব্যবস্থা করা ও অবৈধ দখল হওয়া নদী ও খাল উদ্ধার করে তা খননের মাধ্যমে পানি প্রবাহ সচল করা হবে, যাতে কৃষকরা কৃষিকাজে সেই পানি ব্যবহার করতে পারেন। ইতিমধ্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন দেশের এবং রাজশাহীর উন্নয়নে পদ্মা ব্যারেজ করবেন। মূল কারণ হচ্ছে ভারত পদ্মা নদীতে ফারাক্কা বাদ দিয়ে উত্তরাঞ্চলকে মরুকরণে পরিণত করেছে। এ অবস্থা থেকে উন্নয়নে খাল খনন করা সহ পদ্মা নদী ড্রেজিং করে পানি প্রবাহের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) রাজশাহী জেলা সভাপতি প্রকৌশলী মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘দখল আর দূষণে জর্জরিত বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রাণ খ্যাত বারনই নদী। বিভিন্নভাবে বর্জ্য ও দূষিত পানি ড্রেনের মাধ্যমে বারনই নদীতে সরাসরি মিশে এর পানি বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠার ফলে নদীটির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, সৌন্দর্য ও নদীর নাব্যতা দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে পরিবেশ দূষণসহ জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পাশাপাশি কৃষি ও স্থানীয়দের জনজীবন বিপন্ন হচ্ছে। এসবের মূল কারণ বিভিন্ন হাট-বাজার ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকার পয়ঃনিষ্কাশন ও কল কারখানার তরল বর্জ্য, সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও বিসিকসহ বিভিন্ন মিল-কলকারখানার কেমিকেল বর্জ্য প্রতিনিয়তই সিটি (পশুর হাট) হাটের পার্শ্বের ড্রেন দিয়ে কুজকাই খাল, পাকুড়িয়া ও দুয়ারী খাল হয়ে বারনই নদীতে পড়ছে এবং অন্যদিকে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ভবনের পেছনে গাঙ্গপাড়া দিয়ে বায়া বাজার ও মহনন্দখালী শাখা নদী হয়ে বারনই নদীতে গিয়ে পড়ছে। পরিবেশ ঠিক রাখতে সবার আগে এসব সমস্যার সমাধান জরুরী। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠবে একটি আধুনিক ও উন্নত উপজেলা। এই প্রত্যাশা পবা-মোহনপুর আসনের আগামীর নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) রাজশাহী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোসা. সেলিনা বেগম, ‘স্থানীয় হাট-বাজার ও নগরীর বিভিন্ন বর্জ্য ফেলায় নদী ও খাল ভরাট হচ্ছে এবং নদীর পাড় দখল করে অবৈধভাবে নানা স্থাপনা গড়ে উঠার কারণে নদীর নাব্যতা হারানোর পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। রাজশাহী-৩ পবা-মোহনপুর আসনের আগামীর নির্বাচিত এমপির কাছে প্রত্যাশা এই অঞ্চলের মানুষের কথা চিন্তা করে নগরীর বিষাক্ত পানি শোধন করে বারনই নদীতে ফেলা, নিদ্রিষ্টস্থানে নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়াজাতকরণ, দখলকৃত স্থাপনা অপসারণ, নদী ও খাল খনন করে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক করতে হবে, কৃষকরা যাতে এই পানি সেচের জন্য ব্যবহার করে চাষাবাদ করতে পারে।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) পবা উপজেলা শাখার সম্পাদক ইউসুফ আলী চৌধুরী বলেন, ‘নগরীর ফেলা এই তরল বর্জ্য নদীর সাথে মিশে পানি বিষাক্ত হচ্ছে। এইসব নদীর পানি দিয়ে নদী পাড়ের মানুষ ও গবাদিপশু গোসলসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে খোস-পাঁচড়া, চর্মরোগেসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। নদী পাড়ের জেলেরা মৎস্যশিকার ও কৃষকরা দূষিত পানি কৃষি কাজে ব্যবহার করে শাক-সবজিসহ কৃষির বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন বিন্তু এই বর্জ্য ও দূষিত পানি ফেলার কারণে নদীর দেশি মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ বিলুপ্ত হচ্ছে। এরফলে নদীর পরিবেশগত ভারসাম্য এবং জনস্বাস্থ্য অত্যন্ত হুমকির মুখে পড়েছে। এখনই এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে না হলে পরিবেশ আরোও হুমকির মূখে পড়বে।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জেলা শাখার কোষাধ্যক্ষ জাহিদ হাসান, সদস্য শাহনাজ পারভীন, পরিবেশকর্মী সম্রাট রায়হান, স্বপ্না ইয়াসমিন কাজল, পবা উপজেলা শাখার সভাপতি মোসা. রহিমা বেগম, পরিবেশকর্মী রায়হান আলী জুয়েলসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের পরিবেশকর্মীবৃন্দ।