চট্টগ্রাম বন্দরের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট স্থগিতের পর সচল হলো

Indefinite strike at Chittagong Port resumes after suspension
অনলাইন ডেস্ক ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:২৯ অপরাহ্ন অর্থনীতি
অনলাইন ডেস্ক ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:২৯ অপরাহ্ন
চট্টগ্রাম বন্দরের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট  স্থগিতের পর সচল হলো
সংগৃহীত ছবি

নির্বাচন ও রমজানকে সামনে রেখে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট স্থগিত ঘোষণা করেছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। ধর্মঘট স্থগিতের পর নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করেছে বন্দর।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হয়।

ধর্মঘট চলাকালে বন্দরের তিনটি প্রধান টার্মিনাল—জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। আজ সকাল থেকে এসব টার্মিনালে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো-নামানো শুরু হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ সকাল আটটা থেকে জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল, প্রশাসনিক ভবনের পাশাপাশি বহির্নোঙরে (আউটার লাইটারেজ) পরিচালন কাজ শুরু হয়েছে।রোববার কর্মবিরতির কারণে এসব কাজ বন্ধ ছিল।

রোববার রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর ঘোষণা মোতাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এনসিটির চুক্তি হবে না বলে ঘোষণা দেওয়ায় নির্বাচন ও রোজার পণ্য খালাসের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন আন্দোলনকারী কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, গ্রেপ্তার, শাস্তিমূলক বদলি, বাসা বরাদ্দ বাতিলসহ ১৬ কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের যে পদক্ষেপ নিয়েছে এসব বিষয়ে সুরাহা না হলে আবার নতুন করে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির গণমাধ্যমকে  বলেন, ‘এনসিটিকে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার কাজ এই সরকারের আমলে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। আমরা মনে করি, এটি আমাদের প্রাথমিক বিজয়। সবকিছু বিবেচনা করে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। আজ সকাল ৮টা থেকে শ্রমিক-কর্মচারীরা কাজে যোগ দিয়েছেন।’

এর আগে লাগাতার কর্মবিরতিতে অচল হয়ে পড়ে চট্টগ্রাম বন্দর। এনসিটির ইজাররা প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে গত শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করে শ্রমিক কর্মচারীরা। এতে দেশের প্রধান এই সমুদ্র বন্দর দিয়ে আমদানি রপ্তানি বাণিজ্য প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ধর্মঘট প্রত্যাহার করায় স্বস্তি ফিরেছে বন্দর ব্যবহারকারীদের মাঝে। সকাল ৮টার পর আবারও স্থবিরতা কাটিয়ে কর্মমুখর হয়ে উঠেছে দেশের প্রধান এই সমুদ্র বন্দর। তবে সাত দিন কাজ বন্ধ থাকার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে বলছেন সংশ্লিষ্টরা।