চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড’ অনুষ্ঠিত
চাঁপাইনবাবগঞ্জের হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম থেক নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড’। প্রথম আলো বন্ধুসভা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বেলা ১১ টার দিকে বিদ্যালয়ের সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজন করা হয় মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডের কুইজ প্রতিযোগিতা অংশের। এ সময় ২০ মিনিট ধরে শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ১২০ জন শিক্ষার্থী। প্রতিযোগিতা শেষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভার। আলোচনা শেষে প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পাঁচজনকে প্রথমা প্রকাশনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই উপহার দেয়া হয়। বিজয়ীরা হলো, নবম শ্রেণীর আতিকুর জামান, আহনাফ শাহরিয়ার, অষ্টম শ্রেণীর মাহমুদুল হাসান, উমায়ের উসাইদ ও নবম শ্রেণীর আরাফ মোর্শেদ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম আলো বন্ধুসভার সভাপতি মাসরুফা খাতুনের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আনোয়ার হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুবিনা আনিস। অন্যানের মধ্যে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফল হক ও আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ স্কাউটস চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সহকারী কমিশনার আশরাফুল আম্বিয়া, অত্র বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সৈয়দ মফিজুল ইসলাম ও মাহবুব জন, বাবুডাইং আলোর পাঠশালার প্রধান শিক্ষক আলী উজ্জামান নূর, শিক্ষার্থী সাফি শাহরিয়ার ভাষা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ বন্ধুসভার দপ্তর সম্পাদক ফাহিম আসেফ উৎস প্রমূখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ বন্ধুসভার সহসভাপতি ফারাহ উলফাৎ অর্পিতা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুবিনা আনিস বলেন, ইতিহাসের সত্যকে ভুলতে নেই। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, এমনই সত্য ইতিহাস, যাকে ভুলে যাওয়া যায় না। সত্য ইতিহাসকে আমাদের জানতে হবে। লেখক বাছাই করে সঠিক বইটি পড়তে হবে। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এমন আয়োজনের জন্য তিনি প্রথম আলো ও প্রথম আলো বন্ধুসভাকে ধন্যবাদ জানান।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম।
তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হয়তো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি, কিন্তু একদিন তোমাদের হাত ধরেই এসব চেতনার বাস্তবায়ন হবে এ বিশ্বাস আমাদের আছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফল হক বলেন, ২৫ শে মার্চ কালরাতে নিরস্ত্র বাঙ্গালীদের ওপর পাকিস্তান হানাদার বাহিনী যে গণহত্যা চালিয়েছিল তা জানতে পেরে আমার আর সহ্য হয়নি। তার প্রতিশোধ নিতে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। যুদ্ধে মারা যেতে পারি এ ভয় কখনো আমাকে আক্রান্ত করেনি।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, 'মহান মুক্তিযুদ্ধ জাতির জীবনে সবচেয়ে বড় অর্জন। সবচেয়ে বড় ঘটনা। কোন অপশক্তি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে মুছে ফেলতে পারবে না। সীমাহীন আত্মত্যাগের বিনিময়ে এ ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। '