বাবুডাইং আলোর পাঠশালায় বাংলা বর্ষবরণ
হাতে হাতে বাঁশি, মুখে মুখোশ, রঙিন ফিতাসহ দাশাই নাচের সঙ্গে বৈশাখী সাজের সাথে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ, নাচ-গান পরিবেশনসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বাবুডাইং আলোর পাঠশালায় মঙ্গলবার বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বর্ণ্যাঢ্য এ আয়োজনে অংশ নিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা ইসলামিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম আলো বন্ধুসভার বন্ধুসহ আরও নানা শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিরাও অংশ নেন।
এ উপলক্ষে সকাল নয়টায় বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম আলো বন্ধুসভার উদ্যোগে তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘বৈশাখী মেলা’ বিষয়ে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সাড়ে ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বের করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি আলোর পাঠশালা সড়ক ঘুরে বিদ্যালয়ে এসে অনুষ্ঠানে মিলিত হয়। অনুষ্ঠান শুরুর আগে খেবেল খেচা নাচে মেতে ওঠে ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও বাঙালি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দল।
বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী উজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আনোয়ার হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক আব্দুর রাকিব, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি শওকত আরা, বালিয়াডাঙ্গা ইসলামিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সৈয়দ আজফার হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম আলো বন্ধুসভার উপদেষ্টা আজিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রামিজ আহমেদ অন্তর।
কবিতা আবৃত্তি করেন আজিজুর রহমান ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ বন্ধুসভার সহসভাপতি ফারাহ উলফাৎ রহমান অর্পিতা। গান পরিবেশন করে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাজরিন খাতুন। নাচ পরিবেশন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ বন্ধুসভার বন্ধু আরেফিন অপু, আলোর পাঠশালার খন্ডকালীন শিক্ষক নীলমুনি কিসকু, শিক্ষার্থী মৌমিতা হাঁসদা, সুরমিলা হাঁসদা, ববিতা সাইচুরি, সোনালী হাঁসদা, গীতা মুরমু, মাসুমা খাতুন, বৃষ্টি মুরমু। কোল ক্ষুদ্র জাতিসত্ত¡ার ঐতিহ্যবাহী দাশাই নাচ পরিবেশন করে দাশাই দলের সদস্যরা। এ নাচের নেতৃত্ব দেন সিনিয়র শিক্ষক নির্মল কোল ও সহকারী শিক্ষক ট্রেম হাসদা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিনিয়র শিক্ষক সাঈদ মাহমুদ। বক্তব্য শেষে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার বিজয়ী ছয়জনের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।
বক্তারা বলেন, আবহমান বাংলার ঐতিহ্য হচ্ছে সম্প্রীতি। সমতা ও অসম্প্রদায়িক চেতনার দীপ্তিতে আলোকিত আমাদের স্বদেশ। আজকের এ শুভ দিনে আমাদের প্রত্যাশা, মানবতা ধ্বংসকারী সকল অপশক্তি বিনাশ হয়ে মানবতার জয় হোক।
শওকত আরা বলেন, এ বিদ্যালয়টি যে অসম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে বেড়ে ওঠেছে তা বোঝা যায়। কেননা, আজকের দিনে যেখানে সংস্কৃতি দমন করতে নানা কৌশলে একটি শক্তি বাধা দিচ্ছে, সেখানে এ বিদ্যালয়ের এমন আয়োজন খুবই চমকপ্রদ। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে এ বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক দলের সদস্যরা শুধু ক্ষুদ্র জাতিসত্ত¡ার নয়। এ দলে বাঙালি শিশুরাও আছে। আছে ইসলাম, হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মের শিশুরাও। তাদেরকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে তারা আলাদা গোত্রের। তাদের এমন সম্প্রীতি আমাদের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
শেষে সকলকে নিয়ে বৈশাখী খাবারের আয়োজন করা হয়।