রাজশাহী জেলা পরিষদ প্রশাসকের দিনব্যাপী আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন

Bengali New Year 1433
নিজস্ব প্রতিনিধি: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ১১:১৬ অপরাহ্ন সারা বাংলা
নিজস্ব প্রতিনিধি: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ১১:১৬ অপরাহ্ন
রাজশাহী  জেলা পরিষদ প্রশাসকের দিনব্যাপী   আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা আয়োজনে অংশগ্রহণ করেছেন রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী (ঈশা)।

রাজশাহী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে যথাযোগ্য মর্যাদায় বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়। এ উপলক্ষে সকাল ৭টায় কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেনের সামনে থেকে ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ স্লোগানকে সামনে রেখে একটি বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি সিএন্ডবি মোড় হয়ে শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রা শেষে সকাল পৌনে ৮টায় শিশু একাডেমি চত্বরে দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী (ঈসা)।

এছাড়া নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়। সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়, যার উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক। এসময় তিনি বলেন,“বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরম ও প্রাকৃতিক পরিবেশ আমাকে মুগ্ধ করেছে এবং নববর্ষের আয়োজনে বাঙালি সংস্কৃতির চমৎকার উপস্থাপন সত্যিই প্রশংসনীয়।”

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. ছায়েদুর রহমান বলেন,“নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি খুব শিগগিরই তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা বিকাশে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”তিনি উপস্থিত সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।

অন্যদিকে, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রাজশাহী ডান্স এসোসিয়েশনের আয়োজনে নগরীর একটি রেস্তোরাঁয় বর্ণিল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো.এরশাদ আলী (ঈশা)। অনুষ্ঠানে ডান্স এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এর আগে তিনি মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশনা উপভোগ করেন।

এছাড়াও নববর্ষ উপলক্ষে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী পদ্মাপাড়ে অনুষ্ঠিত হয় এক বর্ণাঢ্য ঘুড়ি উৎসব। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে ‘সীমান্ত অবকাশ’ এলাকায় রাজশাহী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসব সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী (ঈসা)।

 বিশেষ অতিথি বক্তব্যে  তিনি বলেন,আজকের এই মনোরম ঘুড়ি উৎসব আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও শৈশবের স্মৃতিকে নতুন করে জাগ্রত করেছে। একসময় এই ঘুড়ি উড়ানো ছিল আমাদের গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রযুক্তির এই যুগেও এমন আয়োজন আমাদের শিকড়ের সাথে সংযুক্ত রাখে এটাই এই উৎসবের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।

তিনি আরো বলেন, ঘুড়ি যেমন আকাশে উড়ে, তেমনি আমাদের স্বপ্নও হওয়া উচিত আকাশচুম্বী। কিন্তু সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রয়োজন পরিশ্রম, সততা এবং ঐক্য। আজকের এই আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক বিনোদনের পাশাপাশি সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী করে তুলবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

রাজশাহী জেলা পরিষদ সবসময়ই এমন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক উদ্যোগের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।