১ মে শ্রমিক দিবস

শ্রমিক শ্রেণীকেই তাদের কথা বলতে হবে

labor day
ওয়ালিউর রহমান বাবু ০১ মে ২০২৬ ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন নির্বাচিত সংবাদ
ওয়ালিউর রহমান বাবু ০১ মে ২০২৬ ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন
শ্রমিক শ্রেণীকেই তাদের কথা বলতে হবে
-- প্রতীকী ছবি

দুঃসাহসিক  ইউরোপিয়ান নাবিক কলম্বাস সমুদ্র অভিযানে এসে একটি ভূখণ্ড আবিষ্কার করে এটিকে ভারতের ভূখণ্ডের অংশ ভেবে এর নাম দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর আরেক দুঃসাহসিক নাবিক এমিরেগো অভিযানে এসে বলেন এটি স্বতন্ত্র ভূভণ্ড। তার নাম অনুসারে এর নাম হয়ে যায় অ্যামেরিকা। নগর সভ্যতা গড়ে তুলতে বিভিন্ন স্থান থেকে  এখানে লোকজন আনা হতে থাকে এরা হয়ে যায় দাস।এখানে শুরু হয় বসবাস। কাজের জন্য এখানে যাদের নিয়ে আসা হয় তাদের সেভাবে মূল্যায়ন না করে উপযুক্ত পারিশ্রমিক না দেয়ায় অসন্তোষ বাড়তে থাকে শুরু হয় প্রতিবাদ। ১৮৭৬ সালে এই ভূখন্ডে উপর থেকে ব্রিটিশ কতৃত্বের অবসান হয়। তবে শ্রমিক আন্দোলন তীব্র হতে থাকে। ১৮৮৬ সালের ১ মে এই অ্যামেরিকার সিকাগো শহরে ৮ ঘন্টা কাজের দামি শ্রমিকরা তাদের রক্ত ও জীবন উৎসর্গের মাধ্যমে আদায় করে নেয় এই ঘটনা সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’ শ্লোগান সারাবিশ্বকে তোলপাড় করে দেয়। এক পর্যায়ে ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’ শ্লোগানটি আন্তর্জাতিক মর্যাদা লাভ করে এ দিনটি শ্রমিক দিবস হিসেনে স্বীকৃত। কয়েকটি দেশ ছাড়া প্রতিটি দেশে দিনটি পালন করা হয়।

সাধারণ অর্থে শ্রমিক মানে মজুরির বিনিময়ে যারা শ্রমদেন। কিন্ত সমাজবিজ্ঞানীদের মতে এর মানে ভিন্নতা আছে। একটি দেশের বা সমাজ উন্নয়নের শ্রমিক শ্রেণির অবদান আছে। আমাদের দেশে ও তাই কিন্তু তারা সব সময় অবহেলিত কারণ তারা নিজেরাই তাদের অধিকার সম্পর্কে অসচেতন। শ্রমিক আন্দোলনে কমউনিষ্ট,বম বা লাল ঝাণ্ডার ভূমিকা থাকা অনেকে এ ব্যাপারে তেমন আগ্রহ দেখান না। পবিত্র ধর্ম গ্রন্থে শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কে বিষদ ব্যাখ্যা থাকলেও অনেকের এ বিষয়টি এড়িয়ে যান। সিকাগো শহরে সেদিনের আন্দোলনে কোন পক্ষ নেতৃত্ব দেয় তা নিয়ে এত বছর পরেও মাঝে মাঝে কথা উঠে যে পক্ষই সেদিন নেতৃত্ব দেয় তার আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে স্থান পেয়েছে। তা অস্বীকার করা যায় না এখন পুরাতন চিন্তাভাবনার পরিবর্তন এলেও বাধা আমাদের দেশের শ্রমিক সংগঠন গুলি তারা নিজেদের দন্দে লিপ্ত। এছাড়াও শ্রমিক সংগঠন গুলি রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠন হওয়ায় নিজেস্ব ধারায় কথা বলতে পারে না। তারা সামাজিক রাজনৈতিক পারিপার্শিক অর্থনৈতিক অবস্থ সম্পর্কে অজ্ঞ। শ্রমিক বাচলে দেশ বাঁচবে অগ্রগতি এগিয়ে যাবে শ্রমিক স্বার্থ যদি প্রাধান্য না পায় তাহলে দেশের অগ্রগতি পিছিয়ে যাবে। এ ব্যাপান টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। পুরানো ভাবনা পরিহার করে রাজনৈতিক দল গুলো এখন শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কথা বল্লেও শ্রমিকদের নিয়ে যত না বলে তার চেয়ে তাদের রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে কথা বলেন কারণ তারা অধিকাংশ এ বিষয় গুলো সম্পর্কে অজ্ঞ। তারা সব কিছু গুলিয়ে ফেলেন। সিকাগো শহরে সেদিনের অন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে এদেশের রাজনৈতিক সামাজিক অর্থনৈতিক পারিপার্ষিক অবস্থার আলোকে শ্রমিক শ্রেনিকে সচেতন থেকে অজ্ঞতা পরিহার করে তাদের কেই নিয়মতান্ত্রিক ভাবে তাদের কথা তুলে ধরতে হবে ।

লেখক : সমাজ ও সাংস্কৃতিক কর্মী রাজশাহী