গুটি বসন্তের উপসর্গ নিয়ে স্কুল শিক্ষকের মৃত্যু

Death of a school teacher
অনলাইন ডেস্ক ০৪ মে ২০২৬ ০৩:০৪ অপরাহ্ন সারা বাংলা
অনলাইন ডেস্ক ০৪ মে ২০২৬ ০৩:০৪ অপরাহ্ন
গুটি বসন্তের উপসর্গ নিয়ে স্কুল  শিক্ষকের মৃত্যু
গাইবান্ধায় গুটি বসন্তের (পক্স) উপসর্গ নিয়ে এক স্কুল শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে।--সংগৃহীত ছবি

গাইবান্ধায় গুটি বসন্তের (পক্স) উপসর্গ নিয়ে এক স্কুল শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ওই মৃতের স্ত্রী ও দুই সন্তানের শরীরেও। ঘটনার পর ওই এলাকায় নমুনা সংগ্রহের কাজ চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ। এ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।

সোমবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধার সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) সুপারিন্টেন্ডেন্ট শরীফুজ্জামান। গত রাত ১টার দিকে নিজ বাড়িতে ওই শিক্ষকের মৃত্যু হয়।

৪৫ বছর বয়সী ওই স্কুল শিক্ষকের নাম ইতিশ চন্দ্র দাস। তিনি সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের খোলাহাটী মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং একই এলাকার প্রাণবন্ধু চন্দ্র দাসের ছেলে। ইতিশ খোলাহাটী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মৃতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে  জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল ইতিশ চন্দ্র দাসের শরীর জুড়ে পক্সের মতো ক্ষত দেখা দেয়। চার দিন পর বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার গভীর রাতে তিনি মারা যান। 

এদিকে একই উপসর্গ দেখা দিয়েছে মৃত স্কুল শিক্ষক ইতিশ চন্দ্র দাসের স্ত্রী সুচনা রানী, বড় ছেলে প্রিমল দাস ও ছোট ছেলে অমীত দাসের মধ্যে। ওই শিক্ষকের এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোক এবং একই সঙ্গে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

নিহতের স্ত্রী অর্চনা রানী জানান, বৃহস্পতিবারের দিকে প্রথমে তার (ইতিশ চন্দ্রের) শরীরে গুটি বসন্ত দেখা দেয়। চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ হলেও পরে আবার জটিল আকার ধারণ করে। শেষে গতকাল রাতে তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, তাদের বড় ছেলে প্রিমল দাস বুধবার ঢাকায় থেকে বাড়িতে এসে সেও একই রোগে আক্রান্ত হয়। এছাড়া ছোট ছেলে অমীত দাসও আক্রান্ত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধার সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) সুপারিন্টেন্ডেন্ট শরীফুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত আছি। জানার পর স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা ওই এলাকায় তথ্য ও নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন। তারা মৃতের পরিবারে যারা আক্রান্ত তাদের নমুনা সংগ্রহ করবেন। সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। রিপোর্ট পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে ইতিশ চন্দ্র কোন রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন বা তার পরিবারের সদ্যস্যরা কোন রোগে আক্রান্ত।

এসময় তথ্য ও নমুনা সংগ্রহের কাজে থাকা স্বাস্থ্যকর্মীদের তিনি জানান, ইতিশ চন্দ্র আগে থেকেই হার্টের রোগী ছিলেন।

এ ব্যাপারে কয়েক দফায় গাইবান্ধা সিভিল সার্জনের নম্বরে ফোন দিলেও শেষবার পর্যন্ত নম্বরটি বিজি পাওয়া যায়। পরে হোয়াটসআ্যপে নক করা হলে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণ করছি সেটি চিকেন পক্স। এটি ছোঁয়াছে রোগ। এ সময় তিনি আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলেও জানান।