রাজশাহীর কেন্দ্রীয় উদ্যান হচ্ছে ‘বার্ড পার্ক’, বিক্রি হবে অতিরিক্ত হরিণ
রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও বোটানিক্যাল গার্ডেনকে এবার ‘বার্ড পার্ক’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। একইসঙ্গে পার্কের ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি হয়ে যাওয়া হরিণ বিক্রিরও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একসময় রাজশাহী কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানায় বাঘ, সিংহ, উট, অজগর, সারস, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, হরিণ, গরু, গাধা, কচ্ছপ ও উদবিড়ালসহ নানা প্রাণীর সমাহার ছিল। তবে সময়ের ব্যবধানে একের পর এক প্রাণী হারিয়ে যেতে থাকে। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পার্কটির আধুনিকায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন করা হয় এবং নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় “রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও বোটানিক্যাল গার্ডেন”।
তবে বর্তমানে পার্কটিতে প্রাণীর সংখ্যা অনেক কমে গেলেও হরিণের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৯টিতে। রাসিক কর্তৃপক্ষ বলছে, এতো সংখ্যক হরিণের খাদ্য ও পরিচর্যা ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
রাসিকের ভ্যাটেনিরারি সার্জন ডা. ফরহাদ উদ্দিন জানান, সিলেটের জালালাবাদ প্যারা কমান্ড ইউনিট ৫টি হরিণ চেয়ে আবেদন করেছে। এর মধ্যে দুটি হরিণের জন্য নির্ধারিত মূল্য হিসেবে ১ লাখ টাকা পরিশোধের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং বাকি তিনটি অনুদান হিসেবে চাওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রশাসকের অনুমোদন পেলেই হরিণ হস্তান্তর করা হবে। তবে কঠোর শর্ত থাকবে— বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া কেউ হরিণ কিনতে পারবেন না এবং কোনোভাবেই জবাই করা যাবে না।”
রাসিক সূত্র জানায়, বর্তমানে পার্কটিতে দুটি ঘড়িয়ালও রয়েছে। সম্প্রতি স্ত্রী ঘড়িয়াল ডিম দিলেও তা সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে ইনকিউবেটরের মাধ্যমে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে প্রায় ৩৩ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা কেন্দ্রীয় উদ্যানের একটি অংশে বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার নির্মাণ হওয়ায় পার্কের আয়তন কমে গেছে। ফলে পূর্ণাঙ্গ চিড়িয়াখানা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে এটিকে আধুনিক বার্ড পার্কে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রাসিক জানিয়েছে, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই নতুন প্রকল্পের আওতায় পার্কটিকে ঢেলে সাজানো হবে এবং দ্বিতীয়বারের মতো নাম পরিবর্তন করা হবে।