অবরুদ্ধ সেতুমন্ত্রীকে উদ্ধার করল পুলিশ

Sheikh Rabiul Alam
অনলাইন ডেস্ক ১৯ মে ২০২৬ ০৭:৫৪ অপরাহ্ন সারা বাংলা
অনলাইন ডেস্ক ১৯ মে ২০২৬ ০৭:৫৪ অপরাহ্ন
অবরুদ্ধ সেতুমন্ত্রীকে উদ্ধার করল পুলিশ
সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।--সংগৃহীত ছবি

পটুয়াখালীর বাউফলে জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই করতে গিয়ে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের উত্তেজনার মুখে পড়েন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। একপর্যায়ে তিনি এক ঘণ্টার মতো অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে উপজেলার বগা ফেরিঘাট এলাকার ঘটনা এটি। পরে পুলিশের সহায়তায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন মন্ত্রী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাউফলের প্রবেশদ্বার বগা এলাকায় লোহালিয়া নদীর ওপর নবম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ সেতু নির্মিত হলে ভোলা, লক্ষ্মীপুর ও পটুয়াখালীর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে বগা ফেরিঘাটে পৌঁছান সেতুমন্ত্রী। পরে নদীর পূর্বপাড়ে আয়োজিত একটি সভায় যোগ দিতে ফেরিতে ওঠেন। সভাটির আয়োজন করেন পটুয়াখালী-২ আসনের জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

তবে মন্ত্রীর ওই সভায় অংশ নেয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা দেন। মন্ত্রী পূর্বপাড়ে পৌঁছানোর পর বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিভিন্ন দিক থেকে সেতুমন্ত্রীর গাড়িবহর ঘিরে ফেলা হয়। এসময় উভয়পক্ষ পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকে।

প্রায় এক ঘণ্টা পরিস্থিতির মধ্যে থাকার পর পুলিশের সহায়তায় একই ফেরিতে পশ্চিমপাড়ে ফিরে যান সেতুমন্ত্রী। পরে তিনি গাড়িবহর নিয়ে পটুয়াখালীর উদ্দেশে রওনা দেন।

মন্ত্রীর সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী সদর আসনের এমপি আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, বাউফলের পরাজিত এমপি প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদার এবং জামায়াত নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, জামায়াত আয়োজিত সভায় মন্ত্রীকে অংশ নিতে না দিতেই বিএনপির নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে বাধা সৃষ্টি করেন।

স্থানীয় বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর ধারণা, বগা সেতু নির্মিত হলে এর রাজনৈতিক কৃতিত্ব পেতে পারেন জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদ। সে কারণেই সেতু প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারাও গণমাধ্যমে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ সাংবাদিকদের বলেন, সভাস্থলের ব্যানারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি না থাকায় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হন। এ কারণেই তারা সেতুমন্ত্রীকে সভামঞ্চে যেতে বাধা দেন।