ফিফা বিশ্বকাপ

অভিষেকে ব্রাজিল তারকাদের পকেটে রাখা কে এই ১৮ বছরের বুয়াদ্দি?

Who is this 18-year-old kid who has Brazilian stars in his pocket on his debut?
অনলাইন ডেস্ক ১৪ জুন ২০২৬ ০১:১০ অপরাহ্ন বিশ্বকাপ আপডেট
অনলাইন ডেস্ক ১৪ জুন ২০২৬ ০১:১০ অপরাহ্ন
অভিষেকে ব্রাজিল তারকাদের পকেটে রাখা কে এই ১৮ বছরের বুয়াদ্দি?
সংগৃহীত ছবি

ব্রাজিল ম্যাচে ‍বুয়াদ্দি (বামে), ১০ বছর আগে রাশিয়া বিশ্বকাপেও তিনি ছিলেন মরক্কোর ভক্ত হিসেবে (ডানে)

বিশ্বকাপের আগে থেকেই আলোচনায় ছিলেন আইয়ুব বুয়াদ্দি। ফ্রান্সে জন্ম এবং তাদের হয়ে বয়সভিত্তিক দলের নেতৃত্বও দিয়েছেন। কিন্তু বিশ্বকাপের আগে তিনি ছুটছিলেন মরক্কোর নাগরিকত্ব পাওয়ার আশায়। সেখানে সফল হওয়ার পর আজ (রোববার) ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিষেকে ঝলক দেখিয়েছেন বুয়াদ্দি।  

পরিস্থিতি ভিন্ন হলে হয়তো আয়ুব বুয়াদ্দি এদিন মাঠে থাকতেন না, ম্যাচটিও খেলা হতো না তার। ১৮ বছর বয়সে বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজের চতুর্থ আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঝমাঠে এমন আত্মবিশ্বাস নিয়ে নেতৃত্ব দিতে দেখা যেত না তাকে। ফ্রান্স ছেড়ে মরক্কোর হয়ে খেলার সিদ্ধান্তটা পুরোপুরি তারই ছিল। ২০১৮ বিশ্বকাপেও মরক্কোর পক্ষে ছিলেন বুয়াদ্দি, তবে ১০ বছর বয়সী এক খুদে ভক্ত হিসেবে।

বুয়াদ্দির জন্ম ফ্রান্সের সেলনিসে হলেও তার বাবা-মা মরক্কান। ফলে নিজের শেকড়ের সঙ্গে আবেগটা বেশি ছিল এই তরুণ মিডফিল্ডারের। যারা অভিবাসী হিসেবে ফরাসি ভূখণ্ডে এসেছিলেন। তবে ফ্রান্সের মতো ফুটবলের ইতিহাস-সমৃদ্ধ দেশ রেখে মরক্কোকেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য বেছে নিলেন তিনি। ফ্রান্সের জন্য এটি নিঃসন্দেহে ক্ষতি, কারণ বুয়াদ্দি কিশোর বয়স থেকেই অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় দিচ্ছেন।

ব্রাজিলের বিপক্ষে তার সোজা ভঙ্গির খেলা, শক্তিশালী শারীরিক গঠন এবং মাঠজুড়ে দাপট– সবকিছুই তার বয়সের তুলনায় অনেক বেশি পরিণত। প্রথমার্ধে মরক্কো যখন মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ দখলে রেখেছিল, তখন বুয়াদ্দি নিজের অভিজ্ঞতার চেয়েও বেশি পরিপক্বতা দেখিয়ে জায়গা তৈরি করেছেন, বল নিয়ন্ত্রণ করেছেন এবং দলের ভারসাম্য ধরে রেখেছেন। যেন পকেটে পুরে রেখেছিলেন ক্যাসেমিরো, লুকাস পাকেতা ও রজার ইবানেজদের।

পরিসংখ্যান বলছে, ১৮ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে ৯১ শতাংশ পাসেই (৬৬টির মধ্যে ৬০) সফলতা পেয়েছেন। ফাইনাল থার্ডে সফল ছিল শতভাগ (১৬–তে ১৬)। এ ছাড়া ৬টি বল রিকভারি, ৫টি ইন্টারসেপশন ও ৯টি ডুয়েলে জিতেছেন বুয়াদ্দি। প্রথমবার বিশ্বকাপ মঞ্চ এবং ব্রাজিলের মতো পরাশক্তির বিপক্ষে তিনি স্নায়ু ও সামর্থ্যের লড়াইয়ে পুরোপুরি জিতেছেন, নজর কেড়েছেন ফুটবলবিশ্বের।

বুয়াদ্দি সিনিয়র পর্যায়ে কোন দেশের জার্সি পরবেন, তা নিয়ে ফ্রান্স ও মরক্কোর মধ্যে এক ধরনের টানাপোড়েন ছিল। শেষ পর্যন্ত নিজের শেকড়গাঁথা দেশকেই বেছে নেন তিনি। মরক্কোর হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হওয়ার পর বুয়াদ্দি বলেছিলেন, ‘আমি আমার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং এ নিয়ে আমি খুব গর্বিত।’


এসআইএল / বিবিএন