একদিনে দুই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের ম্যাচ কাভার

Match coverage of two world champion teams in one day
অনলাইন ডেস্ক ১৪ জুন ২০২৬ ০২:৪৬ অপরাহ্ন বিশ্বকাপ আপডেট
অনলাইন ডেস্ক ১৪ জুন ২০২৬ ০২:৪৬ অপরাহ্ন
একদিনে দুই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের ম্যাচ কাভার
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বকাপের একটি টিকিটের জন্য সারা বিশ্বের সকল ফুটবলপ্রেমী তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষায় থাকেন। অতি সৌভাগ্যবানরা স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখার সুযোগ পান। ক্রীড়া সাংবাদিকরা পেশাগত কারণে খানিকটা সুবিধা পান। ফিফা মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশন থাকলে যে কোনো ম্যাচ দেখার জন্য আবেদন করা যায়। ফিফা আবেদন অ্যাপ্রুভ করলে ম্যাচ দেখার পাশাপাশি প্রেস কনফারেন্স কিংবা মিক্সড জোন কাভার করা যায়। 

৩২ দলের বিশ্বকাপ ফরম্যাটে ৬৪ ম্যাচ হয়েছে মোট। গ্রুপ পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৪৮ ম্যাচ। একই দিন একই সময়ে একাধিক ভেন্যুতে খেলা থাকায় এক ম্যাচের বেশি কাভার করা সম্ভব হয় না। আবার এক ভেন্যু থেকে আরেক ভেন্যু অনেক দূর হওয়ায় একটি নির্দিষ্ট ভেন্যুতে অবস্থান করলে ম্যাচ কাভারের সংখ্যাও কমে। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশ না হওয়ায় এবং ফিফা র‌্যাংকিংয়ে পেছনে থাকায় অনেক সময় হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের টিকিট আবেদন করেও বাংলাদেশি সাংবাদিকদের অপেক্ষমান থাকতে হয়। 

২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ছিল ক্রীড়া সাংবাদিকদের জন্য ম্যাচ কাভারের দারুণ মঞ্চ। কাতারের রাজধানী দোহা ও নিকটবর্তী শহরেই ছিল সকল ভেন্যু। গ্রুপ পর্যায়ে একই দিন চারটি করে ম্যাচ ছিল। সাংবাদিকরা এক দিনে সর্বোচ্চ দু’টি করে ম্যাচ কাভারের সুযোগ পেয়েছেন। দুই ম্যাচের মধ্যে ছয় ঘণ্টা বিরতি থাকতে হতো। দুপুরে একটায় এক ম্যাচ কাভার করে রাত নয়টায় ম্যাচ কাভার করা গেছে।

গত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আর্জেন্টিনা। ২২ নভেম্বর মেসিরা প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে হেরেছিল। যা বিশ্বকাপের অন্যতম অঘটন ছিল। ম্যাচ পর্যালোচনা, কোচ-দর্শকদের প্রতিক্রিয়া নিউজ শেষ করে যখন একটু দম নেওয়ার উপক্রম। তখন আবার ছুটতে হয়েছে অন্য স্টেডিয়ামে ফ্রান্স-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ কাভার করতে। ঐ ম্যাচে অবশ্য কোনো অঘটন ঘটেনি। ফ্রান্স ৪-১ গোলে সহজেই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে। 

বিশ্বকাপের মতো আসরে দুই ম্যাচ কাভার করা বেশ চাপের। এরপরও একই দিন দুই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের ম্যাচ কাভার করা ক্রীড়া সাংবাদিকদের জন্য ছিল বিশেষ মুহূর্ত। বিশ্বকাপ তো নয়-ই অন্য কোনো সময়েও একই দিন কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের ম্যাচ কাভারের সুযোগ কখনোই মিলে না। কাতার বিশ্বকাপ এই সুযোগ পেয়েছিলেন সাংবাদিকরা।

কাতার বিশ্বকাপের সময় সাংবাদিকরা আড্ডায় বলতেন,‘এই বিশ্বকাপে যত ম্যাচ কাভার করা যাচ্ছে দুই-তিন বিশ্বকাপ মিলিয়েও সেটার সমান হবে না।’ রাশিয়া বিশ্বকাপ কাভারের অভিজ্ঞতা থেকে এই মন্তব্যের যৌক্তিকতা বুঝেছি। দূরত্ব, সময়, দল ও খরচ নানা বিষয় বিবেচনা করে ৯-১০ টি ম্যাচের বেশি কাভার করা বাস্তবিক অর্থেই কঠিন। সেখানে কাতার বিশ্বকাপেই বিশটির বেশি ম্যাচ কাভার করা হয়েছে।

কাতার আয়তনে খুবই ছোট। এক স্টেডিয়াম থেকে আরেক স্টেডিয়ামের মধ্যে সর্বোচ্চ দূরত্ব ছিল ৫০-৬০ কিলোমিটার। এবার আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকো বিশ্বকাপে এক ভেন্যু থেকে আরেক ভেন্যু অনেক দূরত্বে। আমেরিকার নিউইয়র্ক নিউ জার্সি-ফিলাডেলফিয়া ১০০ মাইলের মধ্যে এরপর নিকট দূরত্ব বোস্টন ২০০-২৫০ মাইল। এ ছাড়া নিউইয়র্ক থেকে কানসাস, মিয়ামি, ডালাস, সান ফ্রান্সিসকো, সিয়াটল, লস অ্যাঞ্জেলসের দূরত্ব এক হাজার থেকে শুরু করে চার হাজার মাইলও রয়েছে। কানাডার দুই ভেন্যু টরেন্টো ও ভ্যানকুভারের মধ্যেও কয়েক হাজার মাইল ব্যবধান। আয়তনে বিশ্বের শীর্ষ পনেরো দেশের মধ্যে রয়েছে বিশ্বকাপের তিন স্বাগতিক আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকো। 


এসআইএল/বিবিএন