দ্রুত চাকুরী স্থায়ীকরণ করা না'হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী রাকাব এসইসিপি প্রকল্প কর্মচারীদের
চাকুরী রাজস্বকরণ, নিয়োমিত বেতনের দাবি সহ একাধিক দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন,রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)-এ চালুকৃত প্রকল্প "রাকাব-স্মল এন্টারপ্রাইজেস ক্রেডিট প্রজেক্টে" (SECP) এর কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
তারা অযোগ্য প্রকল্প পরিচালকের আতিদ্রুত অপসারণের , চাকুরীর স্থায়ী করণ,বেতন বৈষম্য দূরীকরণ, প্রকল্পের সকল সুবিধা বাস্তবায়নে এসইসিপি প্রকল্পের কর্মচারী কর্ম বিরতি পালন করছেন,তাদের দাবি গুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে তার বৃহত্তর কর্মসূচীতে যাবেন বলে জানান তারা।
শনিবার(২০ জুন) নগরির একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে, তারা তাদের লিখিত বক্তব্যে বলেন,তারা ২০০২ সাল থেকে রাকাব-স্মল এন্টারপ্রাইজেস ক্রেডিট প্রজেক্টে" (SECP) কাজ করে আসছেন।
তাদের সময় থেকে অদ্যাবধি প্রায় ২৪ বছর ধরে একই গ্রেডে,একই বেতনে কাজ করে আসছেন। এছাড় তাদের নিয়োমিত দেয়া হয়না।এতে করে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে অ-মানবেতর দিন যাপন করছেন।
তারা আরো বলেন,এই প্রকল্পে বর্তমানে আমরা অস্থায়ী হিসেবে ৪২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রায় ২ (দুই) যুগ যাবত কর্মরত আছি। প্রকল্পটি অর্থ মন্ত্রনালয়ের অধীনে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) এর তত্বাবধােেন দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে রাজকীয় নরওয়ে সরকারের এককালীন আর্থিক অনুদানে (অফেরতযোগ্য) ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জামানত/জামানত বিহীন ঋণ প্রদানের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এতে প্রায় ৮০ (আশি) হাজার পরিবারকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা হয়েছে।
প্রকল্পটি ৫ (পাঁচ) বছর মেয়াদে ২০০৭ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ক্রমে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মেয়াদ বর্ধিত করা হয়।
সমাপ্ত প্রকল্পের নিয়মানুযায়ী আইএমইডি এর মূল্যায়ন অনুযায়ী প্রকল্পের অভাবনীয় সাফল্য দেখে SECP প্রকল্পটিকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করার সুপারিশ করেন।
এছাড়া তখন রাকাব প্রধান কার্যালয় হতে প্রকল্পটি সমাপ্তির পর রাকাবের সাথে একিভূত করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত কারণে প্রকল্পটি রাকাবের সাথে একিভূত না করে রাকাবের একটি সাবসিডিয়ারী কোম্পানী গঠনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেন।
প্রস্তাবটির গুরুত্ব বিবেচনা করে মন্ত্রণালয় প্রকল্পটিকে কোম্পানী গঠনের অনুমোদন দিলেও তা রাকাবের সংবিধান বর্হিভূত হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক রাকাবের সাবসিডিয়ারী কোম্পানী গঠনের এখতিয়ার নেই মর্মে একাধিকবার (৪ বার) রাকাবের আবেদন নাকোচ করে দেন। এদিকে প্রকল্পের সাফল্যের কথা চিন্তা করে রাকাব অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রকল্পের মেয়াদোত্তীণের পরও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
আমরা প্রকল্পে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে রাজস্ব বা ব্যাংকের সাথে আত্মীকরন না করে চাকুরীতে যোগদান হতে অদ্যাবধি একই গ্রেডে ও একই স্কেলে বেতন প্রদান করা হচ্ছে। প্রকল্প সমাপ্তির পরও রাজস্ব কিংবা মূল প্রতিষ্ঠানের সাথে আত্মীকরণ না করে কোন সরকারি প্রকল্প চলমান থাকা চাকুরী বিধানে পড়ে কি-না বিষয়টি আমাদের বোধগম্য নয়!
এছাড়া,প্রকল্পকালীন সময়ে প্রকল্পের প্রস্তাবনা অনুযায়ী আমাদের জন্য বরাদ্দ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ও ৫% পিএফ থাকলেও তা কখনই দেওয়া হয় নাই। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বার বার বলা হলে, কতৃপক্ষ চাকুরী স্থায়ী করা হলে বকেয়াসহ সবকিছু একসাথে দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করলে তা বাস্তবায়ন হয়নি।অন্যদিকে সময়ে সময়ে সরকার ঘোষিত প্রনোদনা বা আর্থিক বেনিফিট দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়না।
এর মধ্যে আনেকেরই সরকারী চাকুরীর বয়স প্রায় অবসরের দ্বার প্রান্তে। এখনও চাকুরী স্থয়ীকরন না করায় পরিবার পরিজন নিয়ে আমরা অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছি।
অথচ প্রতিবছর প্রকল্পের নিজস্ব আয় হতে আমাদের বেতন ভাতাদি এবং প্রকল্পে রাকাব হতে প্রেষণে বদলীকৃত উর্দ্ধতন প্রায় ডজন খানেক কর্মকর্তার বেতন ভাতাদি, বোনাস, অতিরিক্ত বোনাস, পিএফ, গ্র্যাচুইটি ছাড়াও অন্যান্য বিশেষ ভাতাদি নেওয়ার পরও প্রতি বছর প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৮-১০ কোটি টাকা আয় করেছে। অথচ আমাদের চাকুরী স্থায়ীকরনের জন্য প্রকল্প পরিচালক থেকে শুরু করে রাকাবের এমডি, চেয়ারম্যান ও তৎকালীন স্থানীয় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মহোদয়কে বিষয়টি অবহিত করা হলেও কেউ কোন কর্নপাত করেননি।
তবে আমাদের দাবীর প্রেক্ষিতে ব্যাংকের পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রকল্পটি জনবল সহ রাকাবের সাথে আত্মীকরনের জন্য গত ১০/০৭/২০২৫ তারিখে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের জন্য প্রস্তাবনা পেশ করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয় কোন সিদ্ধান্ত জানান'নি। উক্ত পত্র প্রেরণের পর দীর্ঘ প্রায় ০১ (এক) বছর পার হলেও রাকাব ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কোন কার্যকর ভূমিকা পালন করছেন।
দাবী সমূহঃ-১০/০৭/২০২৫ তারিখে প্রেরিত পত্রের ভিত্তিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে এসইসিপি প্রকল্প জনবল সহ রাকাবের সাথে আত্মীকরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা।চাকুরীতে যোগদানের তারিখ হতে চাকুরী বিধিমালা অনুযায়ী ইনক্রিমেন্ট ও পিএফ কার্যকর করা। সরকার ঘোষিত ২০২৩ সালে ৫% যা পরবর্তীতে ১০% / ১৫% বিশেষ আর্থিক সুবিধা প্রদান করা।সরকারী বিধি মোতাবেক ১০ (দশ) বছর একই গ্রেডে চাকুরী করায় পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে উন্নিত করণ।
রাকাব এসএমই ফাইন্যান্সিং কোম্পানীর ১৪ তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক পদোন্নতি নীতিমালা বাস্তবায়ন। সরকারী বিধি মোতাবেক টিএ বিল, ছুটি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রদানের দাবি জানান।
প্রকল্পে নিয়োজিত কর্মকর্তা কর্মচারীদের যাবতীয় সুযোগ সুবিধা প্রদানের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক পদক্ষেপ গ্রহন কারার কথা থাকলেও বর্তমান প্রকল্প পরিচালক দীর্ঘ ৭ (সাত) বছর যাবত কোন পদক্ষেপ গ্রহন না করে অযোগ্যতার প্রমান দিয়েছেন। বিধায় এই অযোগ্য প্রকল্প পরিচালকের আতিদ্রুত অপসারণের দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মলনে।
তবে, প্রকল্পটি ব্যাংকের সাথে আত্মীকরন করা হলেও সরকারীভাবে আলাদা করে অতিরিক্ত কোন আর্থিক বরাদ্দ প্রয়োজন হবে না কারন প্রকল্পের আয় হতেই কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা নির্বাহ করা সম্ভব বলে মনে করেন তারা।
অযোগ্য প্রকল্প পরিচালকের আতিদ্রুত অপসারণের , চাকুরীর স্থায়ী করণ,বেতন বৈষম্য দূরীকরণ, প্রকল্পের সকল সুবিধা বাস্তবায়নে এসইসিপি প্রকল্পের কর্মচারী কর্ম বিরতি পালন করছেন,তাদের দাবি গুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে তার বড় ধরনের কর্মসূচীতে যাবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে হুমকী দেন তারা।