তহমিনা বেওয়ার জীবনযুদ্ধ

war of life
অনলাইন ডেস্ক ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন লাইফস্টাইল
অনলাইন ডেস্ক ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন
তহমিনা বেওয়ার জীবনযুদ্ধ
তহমিনা বেওয়ার জীবনযুদ্ধ

‘হামি চাহ্যা খ্যাতে পারি না। কার দুয়ারে যাবো, খ্যাড়্যা হয়্যা থাকবো? তার চ্যেয়্যে খ্যাট্যা খাওয়াই ভালো।’ একদম চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষায় সহজ স্বীকারোক্তি আনুমানিক ষাট বছরের বৃদ্ধা তহমিনা বেওয়ার।

এক সময় কয়েক বিঘা জমি ছিল। গৃহস্থ ছিলেন তাঁরা। হঠাৎ  করেই প্রায় ৩৫ বছর আগে স্বামী তৌহিদ ছোট একটি ছেলেকে রেখে টিটেনাস রোগে মারা যান। তখন থেকেই তহমিনার যুদ্ধ শুরু। তাঁর বাবার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের চৌডালায়। সেখানেও দেখার কেউ নেই। ছেলে বড় হয়ে বিভিন্ন কাজ করেন। কিন্ত শ্বাসকষ্টের রোগী ছেলের তিন মেয়ে এক ছেলে। দুই মেয়েকে এত অভাবের মধ্যেও পাত্রস্থ করেছেন। তার পরও তহমিনা বেওয়ার সুখ, ছেলে তাঁকে কাজ করতে মানা করেন। কিন্তু তহমিনা ভাবেন, যতদিন পারবেন কাজ করবেন। শহরের মেথরপাড়া মোড়ে তাঁর বাড়ি। সেখানেই বিক্রি করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্য কালাই রুটি। বারো তেরো বছর ধরেই তিনি এই কাজ করছেন। বছরের সব সময় বিক্রি এক হয় না। শীতকালে তিন চার কেজি আটার রুটি বিক্রি হয়, বর্ষকালে দুই এক কেজি, রমজান মাসে বন্ধ থাকে রুটি বিক্রি। তখন তাঁর কিভাবে যায়? এই প্রশ্নে অকপটে উত্তর ‘আল্লাহর দিন আল্লাহই নেন।’ একটি কালাই রুটি উনি বিক্রি করেন পনেরো থেকে বিশ টাকা করে। আটার পরিমাণ অনুযায়ী দাম। বেগুন ভর্তা ৫/১০ টাকা। কেউ এমনি চাইলে তহমিনা নিরাশ করেন না। ভর্তা এমনি দেন। সঙ্গে থাকে লবণ, মরিচ বাটা মসলা। মাগরিবের নামাজ পড়ে উনি কালাই রুটি বিক্রি করতে বসেন। শেষ করেন এগারোটার দিকে। লকডাউনের আগে তাঁর অনেক বিক্রি হতো।

সকালেও  বিক্রি করতেন। কিন্তু এখন শরীরের জন্য, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য আর পারেন না। শীতকালে ১০০ টাকা লাভ হতো, এখন ৫০ টাকা লাভ হচ্ছে। কেউ যদি ভালবেসে কিছু দেন তবেই তিনি নেন। খেটে খেতে চান আজীবন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে সারাদেশে বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করেছেন, উনি তা পান। সেটা অসুস্থ ছেলের সংসারে কাজে দেয়। ওনাকে দেখে আরও অনেকে কালাই রুটি বিক্রি শুরু করেছেন, তার পরও বৃদ্ধা তহমিনা বেওয়াকে মায়া করে তাঁর কাছেই কেনেন অনেকে। ধীরে ধীরে অসুস্থ হচ্ছেন তিনি। লো প্রেশার, ডাক্তার ফল, প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেতে বলেছেন। কিন্তু নুন আনতেই পান্তা ফুরোচ্ছে তাঁর। এসবের কথা চিন্তা করেন না। যতদিন আছেন, ততদিন কর্ম করেই যেতে চান। তারপর মহান আল্লাহর ওপর সব ভার দিয়ে নিশ্চিন্ত দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত অথচ সদা হাস্যময়ী তহমিনা বেওয়া। তাঁর এই অপরাজিত মনোভাবের প্রতি রইল শ্রদ্ধা।