চুল পড়া কমাতে বাড়িতে যেভাবে শ্যাম্পু বানাবেন
চুল পড়ার সমস্যা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন অনেকেই। চুলের যত্নে কেউ ব্যবহার করেন দামি শ্যাম্পু, কেউ আবার ভরসা রাখেন বিভিন্ন প্রসাধনীর ওপর। কিন্তু সব পণ্য সবার চুলে সমানভাবে কাজ করে না। ফলে চুলের রুক্ষতা, শুষ্কতা কিংবা চুল পড়ার সমস্যা থেকে যেতে পারে। এ অবস্থায় চুল পরিষ্কার রাখতে অনেকে প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি ঘরোয়া শ্যাম্পুর দিকেও ঝুঁকছেন।
রিঠা, জবা ফুল, জবা পাতা ও আমলকির মতো উপাদান দীর্ঘদিন ধরেই চুলের পরিচর্যায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এসব উপাদান দিয়ে বাড়িতেই তৈরি করা যায় একটি সাধারণ ভেষজ ক্লিনজার। তবে মনে রাখতে হবে, প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করলেই কোনো মিশ্রণ সম্পূর্ণ নিরাপদ হয়ে যায় না।
ঘরোয়া শ্যাম্পু তৈরিতে যা লাগবে
এই শ্যাম্পু তৈরি করতে খুব বেশি উপকরণের প্রয়োজন নেই। লাগবে ১০-১২টি শুকনো রিঠা, ৫-৬টি তাজা অথবা শুকনো জবা ফুল, ৪-৫টি জবা পাতা, ১ টেবিল চামচ আমলকির গুঁড়া এবং ৩-৪ গ্লাস পানি। উপকরণগুলো ব্যবহারের আগে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
রিঠায় থাকা প্রাকৃতিক স্যাপোনিন পানির সঙ্গে মিশে ফেনা তৈরি করতে পারে এবং চুল ও মাথার ত্বক পরিষ্কারে সহায়তা করতে পারে। জবা ফুল ও পাতা এবং আমলকি চুলের পরিচর্যায় ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহৃত হলেও, চুল পড়া বন্ধ করা বা দ্রুত বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
যেভাবে তৈরি করবেন ঘরোয়া শ্যাম্পুপ্রথমে রিঠাগুলোর বীজ বের করে নিন। এরপর একটি পাত্রে ৩-৪ গ্লাস পানি নিয়ে তাতে রিঠা ও জবা ফুল ভিজিয়ে রাখুন। চাইলে জবা পাতাও এ সময় দিয়ে দিতে পারেন। মিশ্রণটি সারারাত ভিজিয়ে রাখলে পরদিন রিঠা নরম হয়ে যাবে।সকালে পাত্রটি চুলায় বসিয়ে কম আঁচে ১৫-২০ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এরপর আমলকির গুঁড়া যোগ করে আরও কিছুক্ষণ গরম করুন। মিশ্রণটি অতিরিক্ত ঘন হয়ে গেলে সামান্য পানি যোগ করা যেতে পারে।রিঠা নরম হয়ে এলে চুলা বন্ধ করে মিশ্রণটি ঠান্ডা হতে দিন। ঠান্ডা হলে হাত দিয়ে রিঠা ও জবা ফুল ভালোভাবে চটকে নিন, যাতে উপাদানগুলোর নির্যাস পানিতে মিশে যায়। এরপর পরিষ্কার ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে তরল অংশ আলাদা করুন। এভাবেই তৈরি হয়ে যাবে ঘরোয়া রিঠা-জবার শ্যাম্পু।
চুলে ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি
প্রথমে চুল ও মাথার ত্বক পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিন। এরপর অল্প পরিমাণে তৈরি শ্যাম্পু মাথার ত্বকে লাগিয়ে আঙুলের ডগা দিয়ে আলতোভাবে মালিশ করুন। নখ দিয়ে ঘষবেন না। দুই থেকে তিন মিনিট পর পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। চুলে মিশ্রণটি জমে থাকলে অস্বস্তি বা জ্বালাপোড়া হতে পারে।
প্রথমবার ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নিন। চুলকানি, লালচে ভাব বা জ্বালাপোড়া হলে ব্যবহার বন্ধ করুন। চোখে যেন মিশ্রণটি না যায়, সেদিকেও খেয়াল রাখুন।
সংরক্ষণে সতর্কতা জরুরি
ঘরে তৈরি এই শ্যাম্পুতে কোনো পরীক্ষিত সংরক্ষক থাকে না। তাই এটি এক সপ্তাহ নিরাপদে রাখা যাবে। জীবাণু বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে অল্প পরিমাণে তৈরি করে দ্রুত ব্যবহার করাই ভালো। সংরক্ষণ করতেই হলে পরিষ্কার, ঢাকনাযুক্ত পাত্রে ফ্রিজে রাখুন এবং গন্ধ, রং বা গঠনে পরিবর্তন দেখা দিলে ফেলে দিন।
চুল পড়া যদি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, হঠাৎ বেড়ে যায় কিংবা মাথার কোনো অংশে চুল পাতলা হয়ে আসে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ পুষ্টির ঘাটতি, হরমোনের পরিবর্তন, থাইরয়েডের সমস্যা, মানসিক চাপসহ নানা কারণে চুল পড়তে পারে। শুধু শ্যাম্পু বদলানোর পরিবর্তে সমস্যার কারণ খুঁজে বের করাই চুলের যত্নে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: বি বিউটিফুল, ইন্ডিয়া টুডে