খামেনির শোক অনুষ্ঠান ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে সতর্কবার্তা ইরানের
ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোক অনুষ্ঠানে হামলা না করতে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কবার্তা দিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী। ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তর খতম আল-আনবিয়ার কমান্ডার আলী আবদোল্লাহী রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থাকে এ তথ্য নিশ্চিতকরেছেন।
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আলী আবদোল্লাহি বলেছেন, “আমরা ইরানের শত্রু, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠীকে (ইসরায়েল) সতর্ক করে বলেছি যে সর্বোচ্চ নেতার শোক অনুষ্ঠানকে লক্ষ্য করে যে তারা কোনো প্রকার বেহিসেবি পদক্ষেপ না নেয়। তাদের আমরা আরও বলেছি, যে কোনো ধরনের বেপরোয়া পদক্ষেপের উপযুক্ত জবাব দিতে আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রস্তুত আছে।”
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। অভিযানের প্রথম দিনই তেহরানে স্ত্রী, পুত্রবধু এবং নাতিসহ নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, যিনি টানা ৩৬ বছর দেশটির সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় খামেনির ছেলে এবং ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।
খামেনি নিহত হওয়ার পর তার দেহ ফ্রিজারে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এবার তাকে দাফনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রী সরকার। এ উপলক্ষে আগামী ৪ জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত ৬ দিন রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে শোক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচিও ইসরায়েলকে একই সতর্কবার্তা দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছিলেন, ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ইসরায়েলের পরবর্তী ‘টার্গেট’।
পরের দিন বুধবারই ইসরায়েলকে সতর্কবার্তা দেন আরাঘচি।
সূত্র : রয়টার্স