নিয়মিত কাঁচা পেঁয়াজ খেলে মিলতে পারে উপকারিতা ,জেনে নিন

raw onion
অনলাইন ডেস্ক ০৪ জুলাই ২০২৬ ১০:৫২ পূর্বাহ্ন স্বাস্থ্য
অনলাইন ডেস্ক ০৪ জুলাই ২০২৬ ১০:৫২ পূর্বাহ্ন
নিয়মিত কাঁচা পেঁয়াজ খেলে মিলতে পারে উপকারিতা ,জেনে নিন
--সংগৃহীত ছবি

রান্নাঘরের পরিচিত উপাদান পেঁয়াজ শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ায় না, নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্যও হতে পারে বেশ উপকারী। এতে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো থেকে শুরু করে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো পর্যন্ত নানা ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

পুষ্টিবিদের মতে, প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত। এটি শরীরকে দীর্ঘমেয়াদি নানা অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা পেঁয়াজে প্রায় ৪০ ক্যালোরি শক্তি, ৯ দশমিক ৩৪ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১ দশমিক ১ গ্রাম প্রোটিন, ১ দশমিক ৭ গ্রাম খাদ্যআঁশ এবং ৭ দশমিক ৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে। এ ছাড়া এতে রয়েছে কোয়ারসেটিন, ফ্ল্যাভোনয়েড, অ্যান্থোসায়ানিন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও আয়রনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাঁচা পেঁয়াজে থাকা ভিটামিন সি ও কোয়ারসেটিন শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। ফলে ঠান্ডা, ফ্লু ও বিভিন্ন ভাইরাসজনিত সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীর সহজে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।

এ ছাড়া পেঁয়াজের সালফার যৌগ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে এবং উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করে। এতে হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমতে পারে। একই সঙ্গে এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পেঁয়াজে থাকা কোয়ারসেটিন ও অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষকে ফ্রি র‌্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দেয়, যা কোলন, স্তন ও প্রোস্টেট ক্যানসারসহ কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

হজমের ক্ষেত্রেও কাঁচা পেঁয়াজ উপকারী। এতে থাকা খাদ্যআঁশ ও প্রিবায়োটিক উপাদান অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটায়, যা হজমশক্তি উন্নত করতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অতিরিক্ত কাঁচা পেঁয়াজ খেলে কিছু মানুষের গ্যাস বা হজমের সমস্যা হতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে এবং শরীরের সহনশীলতা অনুযায়ী এটি খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।