খামেনির দাফন ঘিরে যেসব শঙ্কায় ইরান

Iran's concerns surrounding Khamenei's burial
অনলাইন ডেস্ক ০৪ জুলাই ২০২৬ ১২:০৬ অপরাহ্ন বিশ্ব/আন্তর্জাতিক
অনলাইন ডেস্ক ০৪ জুলাই ২০২৬ ১২:০৬ অপরাহ্ন
খামেনির দাফন ঘিরে যেসব শঙ্কায় ইরান
--সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন প্রক্রিয়া শুরু করেছে ইরান। এ উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যাপক জনসমাগমের আশা করা হচ্ছে। তবে কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইরানের সামনে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

খামেনির দাফন প্রক্রিয়া শুরুর আগে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) শুক্রবার আগামী দিনগুলোতে দেশটিকে লক্ষ্য করে যেকোনো ধরনের হামলার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে। আইআরজিসি বলেছে, যেকোনো ভুলের জবাব আগের চেয়েও কঠোরভাবে দেওয়া হবে। কেউ কোনো ভুল করলে তার এমন জবাব দেওয়া হবে, যা তাদের লজ্জাজনক ইতিহাসে চিরকালের জন্য লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে।

এর আগে সোমবার ইসরায়েলি সংবাদ সংস্থা ওয়াইনেটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে পরবর্তী লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার এ মন্তব্যের পর আইআরজিসি এ হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনির দাফন প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে যেকোনো সম্ভাব্য হামলার ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে ইরান। এ অনুষ্ঠানে লাখ লাখ ইরানি এবং দেশি-বিদেশি অতিথির অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।

খামেনির জন্য আয়োজিত এসব অনুষ্ঠানে ব্যাপক লোকসমাগমের আশা করা হচ্ছে। ফলে এসব স্থানে কোনো হামলা হলে হাজার হাজার মানুষ নিহত হতে পারেন। অন্যদিকে জনসমক্ষে আসা ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তারাও গুপ্তহত্যার অতিরিক্ত ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

শুক্রবার রয়টার্সের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, দাফন প্রক্রিয়া শুরুর আগে তেহরানের রাস্তায় নিরাপত্তাকর্মীরা টহল দিচ্ছেন। ইরান আগামী সোমবার তেহরানের আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘোষণাও দিয়েছে।

ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার ইরান শাখার সাবেক প্রধান ড্যানি সিট্রিনোউইটজ সিএনএনকে বলেন, আকাশ ও স্থল উভয় দিক থেকেই তারা বিভিন্ন হুমকির বিষয়টি বিবেচনায় রাখছে। ইরানিরা কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না। এ কারণে তারা সবকিছু কঠোরভাবে পাহারা দিচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রথম দিনেই তার বাবা ও পরিবারের সদস্যরা নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে উপস্থিত হবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বাইরে ইরানের জন্য আরও অনেক হুমকি রয়েছে। দেশটিতে এমন অনেক সংখ্যালঘু গোষ্ঠীও রয়েছে, যারা অতীতে শাসকগোষ্ঠীর বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এদের মধ্যে কুর্দি সন্ত্রাসী, আরব ও বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা অন্যতম।

ইরান নির্বাসিত মুজাহিদিন-ই খালকের (এমইকে) হামলা নিয়েও নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গোষ্ঠীটি কয়েক দশক ধরে ইরানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন হামলা চালিয়ে আসছে।

সিট্রিনোউইটজ বলেন, আইআরজিসির প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদ ভাহিদির মতো একাধিক কর্মকর্তাকেও প্রকাশ্যে দেখা গেছে। ঝুঁকি সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও তারা নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। শ্রদ্ধা জানানোর সময় তারা আবেগাপ্লুত হয়ে অঝোরে কেঁদেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কান্নার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সপ্তাহব্যাপী দাফন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শুক্রবার তেহরানে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সময় পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেক মোতামাদিয়ান বলেন, শহীদ নেতার বিদায় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। শনিবার সকাল ৬টায় তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লার দরজা সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এর আগে কোনোভাবেই তা খোলা হবে না। লোকজনকে এই সময় অনুযায়ী সেখানে আসার পরিকল্পনা করতে হবে।

প্রেস টিভি জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তা, রাষ্ট্রপ্রধান, বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: সিএনএন