পুনঃখনন খালে ভরপুর পানি, আবাদ নিয়ে স্বস্থিতে কৃষক

Re-excavated canal full of water
আবুল কালাম আজাদ ০৭ জুলাই ২০২৬ ০৫:১২ অপরাহ্ন সারা বাংলা
আবুল কালাম আজাদ ০৭ জুলাই ২০২৬ ০৫:১২ অপরাহ্ন
পুনঃখনন খালে ভরপুর পানি, আবাদ নিয়ে স্বস্থিতে কৃষক
পুনঃখনন খালে ভরপুর পানি, আবাদ নিয়ে স্বস্থিতে কৃষক

নওগাঁর মান্দা উপজেলার কুশম্বা ও ভারশোঁ ইউনিয়নের এক সময়ের দুটি মরা খাল পুনঃখননের পর আষাঢ়ের নতুন পানিতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। খাল দুটি এখন পানিতে টইটম্বুর থাকায় খালের পানি ব্যবহার করে কৃষকেরা সহজেই মেশিনের সাহায্যে জমিতে সেচ দিতে পারছেন। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর হওয়ায় স্থানীয় চাষিদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে এই গুরুত্বপূর্ণ খাল দুটি পুনঃখননের উদ্যোগ নেয়া হয়। নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু এই প্রকল্প দুটির উদ্বোধন করেন। মোট ১ কোটি ১০ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫৭ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে কুশম্বা ইউনিয়নের হাড়কিশোর মৌজার বিল উথরাইল ব্রিজ থেকে বাদলঘাটা ব্রিজ পর্যন্ত খাল পুনঃখননে ব্যয় হয়েছে ৫৪ লাখ ১১ হাজার ৪৮০ টাকা। অন্যদিকে, ভারশোঁ ইউনিয়নের বাঁকাপুর দফাদার মোড় থেকে বিল উথরাইল পর্যন্ত অংশ খননে ব্যয় ধরা হয় ৫৬ লাখ ৬২ হাজার ৯৭৭ টাকা।

★মাঠে মাঠে স্বস্তি, বহুমুখী সুবিধা:

সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ভরাট হয়ে থাকা খাল দুটি নতুন রূপ পাওয়ায় বর্ষার পানি সহজেই জমিতে না জমে খালে গিয়ে সংরক্ষিত হচ্ছে। এতে মাঠের জলাবদ্ধতা যেমন দূর হয়েছে, তেমনি খালের  মজুত পানি সরাসরি জমিতে দিতে পারায় কৃষকের সেচ খরচ,  পরিশ্রম ও দুশ্চিন্তা 

কমে গেছে। 

 কৃষক বিশু মারান্ডী জানান, আগে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় চাষাবাদ ব্যাহত হতো, আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাব দেখা দিত। খাল খননের ফলে জলাবদ্ধতা দূর হয়েছে, সময়মতো ফসল লাগানো যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই খালে দেশি মাছও পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তারা।

★তিন ফসলি জমির উজ্জ্বল সম্ভাবনা:

ভারশোঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমন ও কুশম্বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নওফেল জানান, খাল দুটি পুনঃখননের ফলে প্রায় ১০০ বিঘা জমির স্থায়ী জলাবদ্ধতা দূর হয়েছে। এর ফলে কৃষকেরা এখন বছরে বোরো, আউশ ও আমনসহ তিনটি ফসল অনায়াসে আবাদ করতে পারবেন। শুষ্ক মৌসুমেও এই পানি সেচ কাজে দারুণ ভূমিকা রাখবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শায়লা শারমিন বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে ওই অঞ্চলের কৃষি উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। আগে যেখানে বছরে একটি ফসল তোলা কঠিন ছিল, এখন সেখানে দুই থেকে তিনটি ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে।

★খাল পাড়ে বৃক্ষরোপণ ও কর্মসংস্থান:

মান্দা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, খালের দুই পাড়ে সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় ২ হাজার ৫০০টি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানো হয়েছে। এসব গাছের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদকে। এছাড়া খালে পানি জমে থাকায় দেশি মাছের উৎপাদন বাড়বে, যা স্থানীয় জেলেদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু বলেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে বর্ষার পানি সংরক্ষণ, শুকনো মৌসুমে সেচ সুবিধা, মাছ চাষ এবং পরিবেশ রক্ষায় খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণের মতো বহুমুখী সুফল নিশ্চিত করা হয়েছে। মান্দার বিভিন্ন এলাকায় এই খনন কাজ চলমান রয়েছে, যার সুফল আগামী দিনে সাধারণ মানুষ ও কৃষকেরা দীর্ঘমেয়াদে ভোগ করবেন।