আদালতের নির্দেশের পরও যোগদান আটকে, ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

Allegation of extortion demand of 5 lakh taka
প্রতিনিধি,বদলগাছী (নওগাঁ): ০৭ জুলাই ২০২৬ ০৬:০২ অপরাহ্ন সারা বাংলা
প্রতিনিধি,বদলগাছী (নওগাঁ): ০৭ জুলাই ২০২৬ ০৬:০২ অপরাহ্ন
আদালতের নির্দেশের পরও যোগদান আটকে, ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ
নওগাঁর বদলগাছীতে ৫ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় আদালতের রায় নিয়েও মাদ্রাসায় ঢুকতে পারেননি অধ্যক্ষের অভিযোগ

আদালতের রায় হাতে নিয়েও নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ধর্মপুর গোয়ালভিটা হোসেনিয়া আলিম মাদ্রাসায় দায়িত্ব পালন ও প্রবেশ করতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ। এ ঘটনায় পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।

০৭ জুলাই মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার ডাকবাংলো মোড় এলাকায় একটি রিসোর্টে এই সংবাদ সম্মেলন করেন ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো আনোয়ার হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন বলেন, গত ২০২৪ সালে ৫ আগষ্ট দেশের পটভূমি পরিবর্তন হলে,একই এলাকার আব্দুল করিম,ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমানুল্লাহ সহ কয়েকজন কুচক্রী ব্যক্তি মব সৃষ্টি করে আমাকে ঔই মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয়।পরে আমার বিরুদ্ধে অনৈতিক অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দিয়ে আমাকে বরখাস্ত করে।   

এরপর আমি মহামান্য হাইকোর্টে বরখাস্তের বিরুদ্ধে রিট দাখিল করলে আমাকে স্বীয় পদে যোগদান এবং বেতন ভাতা বকেয়া থাকলে তা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। পরে হাইকোর্টের রায়ের বিপক্ষে আপিল করে আমার প্রতিপক্ষরা। আপিল খারিজ করে আমার পক্ষে রায় দেয় মহামান্য হাইকোর্ট। এসব রায় তোয়াক্কা না করে প্রতিষ্ঠানে গেলে আমার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে,অস্বীকৃতি জানালে আমাকে মারধর করে। পরে ১৯-০৫-২৫ খ্রি: আমি নওগাঁ ০৫ নং আমলী আদালতে আব্দুল করিম,নাসিরুদ্দিন মিঠু,মোছা: করসিয়া বেগম,শাহীন হোসেন, রায়হান আলী সহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করি। এই মামলায় তারা কয়েকজন জেল হাজতে যায়। এরপর আবার ধর্মপুর গোয়ালভিটা হোসেনিয়া মাদ্রাসা গেলে আবারও আমার কাছে একই ব্যক্তিরা চাঁদা দাবি করে মারধর করে। পরে আবার আমি নওগাঁ ০৫ নং আমলী আদালতে মামলা করি,মামলাটি আদালতে তদন্তধীন আছে।

১৯ আগষ্ট ২০২৫ খ্রি: মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর অডিট ও আইন শাখা ৫৭.২৫.০০০০.০০০.০০৯.০১.০০০১.২৪.১৭০ স্বারকে চিঠি দেয়,যদি কোন শিক্ষক কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনৈতিক অভিযোগ ওঠে,তা ছয় মাসের মধ্যে অভিযোগ প্রমানিত না হলে ঔই শিক্ষক কর্মচারীকে স্বীয় পদে যোগদান করে বেতন ভাতা প্রদানের নির্দেশ দেয়। কিন্তু তারপরও কমিটি ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমাকে বেতন ভাতা ও মাদ্রাসায় ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ তোলেন সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার হোসেন।

তিনি আরো বলেন, আদালতের রায় অনুযায়ী তিনি প্রতিষ্ঠানে যোগদান ও দায়িত্ব পালনের অধিকার পেয়েছেন। সেই রায়ের কপি নিয়ে মাদ্রাসায় গেলেও পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সদস্য ও তাঁদের সমর্থকেরা তাঁকে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে দেননি। এতে তিনি আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে বাধার মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেন।আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে রায় কার্যকর হতে দিচ্ছে না। এ কারণে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আদালতের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে দ্রুত তা বাস্তবায়নে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ধর্মপুর গোয়ালভিটা হোসেনিয়া আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমানুল্লাহ  আমান বলেন, চাঁদা দাবির অভিযোগ সঠিক নয়। তার কাছে বর্তমান কমিটি মাদ্রাসার আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলে তিনি সময় নেন। পরে কোর্টে মামলা করলে আব্দুল করিম সহ চারজন ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠায় আদালত। সাবেক অধ্যক্ষ আজকে মাদ্রাসায় আসলে আজ থেকেই আমরা তাকে দায়িত্ব বুঝে দেব।”

কমিটির বিদ্যুৎসাহী সদস্য আব্দুল করিম এর সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান ছনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। কেউ এখন পর্যন্ত আমার কাছে কাগজ পত্র নিয়ে আসেনি। যদি আসে কাগজ পত্র যাচাই করে তাকে সহযোগিতা করা হবে।