সেবাগ্রহীতার নিকট থেকে প্রকাশ্যেই ঘুষের টাকা গুনে নেন তিনি

He openly counted bribe money from the service recipient
আবুল কালাম আজাদ ০৭ জুলাই ২০২৬ ০৫:১৮ অপরাহ্ন সারা বাংলা
আবুল কালাম আজাদ ০৭ জুলাই ২০২৬ ০৫:১৮ অপরাহ্ন
সেবাগ্রহীতার নিকট থেকে প্রকাশ্যেই ঘুষের টাকা গুনে নেন তিনি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের জামবাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে ঘুষ গ্রহনসহ নানাবিধ অভিযোগ উঠেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার জামবাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা প্রদান, নামজারি (খারিজ), খাজনা আদায় ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে ঘুষ গ্রহনসহ নানাবিধ অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গোপন ক্যামেরায় ধারনকৃত অর্থ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে, যা ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের একটি কক্ষে টেবিলের সামনে বসা এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে মফিজুল ইসলাম টাকা গ্রহণ করেন। পরে তিনি সেই টাকা গুনে নিজের পকেটে রেখে দেন। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ভূমি অফিসে কাজ করেন বলে পরিচয় দেওয়া (দালাল) এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমরা কাজ করে দিই। কাগজপত্র ঠিক থাকলে খারিজ করতে ৬ হাজার টাকা নিই। আবার কেউ কেউ আছে কাগজপত্র ভুল আছে বলে টাকা নেই, সেগুলো আমরা করি না। আর চেক কাটলে ২০০ টাকা, কখনো ২ হাজার, আবার কখনো ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।’

জামবাড়িয়া ইউনিয়নের ভূমি সেবাগ্রহীতা মো. আলিমুদ্দীন  বলেন, ‘তারা যার কাছ  যেমন পারছে তেমনভাবে টাকা নিচ্ছে। আমার একটি দলিলের জন্য ৬ হাজার টাকা চেয়েছিল। পরে দুটি দলিলের কথা বললে ৯ হাজার টাকা দাবি করে। কোনো উপায় না পেয়ে আমি দুটি দলিল খারিজের জন্য ৯ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হয়েছি।’

এ ছাড়া ওই ইউনিয়নের কয়েকজন সেবাগ্রহীতার একই অভিযোগ।তারা বলেন, ‘ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রকাশ্যেই ঘুষের লেনদেন হয়। টাকা ছাড়া কোনো কাজ করা হয় না। নির্ধারিত টাকার চেয়ে কম দিতে চাইলে কাজ হয় না।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) মফিজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা বলুন।

ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমরা প্রাথমিকভাবে তদন্ত করছি। যেহেতু একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’