খোলা আকাশের নিচে পাঠদান, ঝুঁকিতে পঞ্চগড়ের শিক্ষার্থীরা

Teaching under the open sky
কুয়েল ইসলাম সিহাত, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ ০৭ জুলাই ২০২৬ ০৫:৫৭ অপরাহ্ন সারা বাংলা
কুয়েল ইসলাম সিহাত, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ ০৭ জুলাই ২০২৬ ০৫:৫৭ অপরাহ্ন
খোলা আকাশের নিচে পাঠদান, ঝুঁকিতে পঞ্চগড়ের শিক্ষার্থীরা
বিদ্যালয়ের মাঠের এক কোনে গাছের ছায়ায় বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে বসে পাঠদান চলছে।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার গরিনাবাড়ী ইউনিয়নের কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে আসায় ২০২২ সাল থেকে পাঠদান সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে দুর্ঘটনা এড়াতে বিদ্যালয়ের মাঠের এক কোনে গাছের ছায়ায় বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে বসে পাঠদান চলছে। তীব্র রোদ, বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই এই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও বেহাল অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ায় ভেতরের মরচে পড়া লোহার রড দৃশ্যমান হয়ে ওঠে এবং দেওয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের জীবন ও নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কর্তৃপক্ষ মূল ভবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। ফলে উন্মুক্ত স্থানে কোনো বোর্ড ছাড়াই শিক্ষকদের মৌখিক পাঠদান করতে হচ্ছে। এতে যেমন পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। আকস্মিক বৃষ্টি বা ঝড়ের আশঙ্কায় যেকোনো সময় ক্লাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবিকের বাবা মো. নুর জামাল বলেন, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই দশা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। খোলা আকাশের নিচে শিশুদের এভাবে ফেলে রেখে সবার জন্য শিক্ষার স্লোগান অর্থহীন হয়ে পড়ে। তিনি অবিলম্বে এখানে একটি নিরাপদ বিকল্প শ্রেণিকক্ষ ও একটি নতুন পাকা ভবন নির্মাণ করার দাবি জানিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু বকর সিদ্দিক জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বিধায় খোলা মাঠে সীমিত পরিসরে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে, তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।

অভিভাবকরা বলেন, এভাবে কি বাচ্চারা পড়াশোনা করতে পারে। শিক্ষকরা অনেক আন্তরিক। তবে শ্রেণি সংকটের কারণে বাচ্চাদের লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটছে। গরমের দিনে সূর্যের তাপে বসা যায় না, আবার শীতের মধ্যেও খোলা আকাশের নিচে ক্লাশ করা যায় না। এছাড়া আমাদের অভিভাবকদেরও বসার কোনো ব্যবস্থা নেই। বাধ্য হয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

এই বিষয়ে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন জানান, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে এবং শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে দ্রুত একটি অস্থায়ী শেড বা শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সাথে বিদ্যালয়টির জন্য একটি নতুন স্থায়ী আধুনিক ভবন অনুমোদনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে শিগগিরই একটি আনুষ্ঠানিক চাহিদাপত্র পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।