ওরে নিয়ে আমি একবারই এসেছি
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রচারিত বিতর্কিত ঘটনা নিয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঘটনার সত্যতা ও প্রকৃত তথ্য যাচাই শেষে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দলটি।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই)জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দলের এ অবস্থানের কথা জানানো হয়।
জামায়াতের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রচারিত বিভিন্ন সংবাদের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে দল।
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বিবৃতি, তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ভিডিও বক্তব্য মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দল থেকে আরও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা এবং তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার পর জামায়াতে ইসলামী তাদের সাংগঠনিক নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।’
সোমবার (২০ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সাবেক আমির ও বর্তমানে দলীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের এক নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওটি প্রকাশের শুরুতে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (ডিপফেক) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রীমূলক ফুটেজ।
তবে তথ্য যাচাইকারী একাধিক প্রতিষ্ঠান ফুটেজটি পর্যালোচনা করে জানায়, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি নয়, বরং এটি আসল।
ফ্যাক্টচেকারদের প্রতিবেদনের পর ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। পরবর্তী সময়ে আজ দুপুরে এক সামাজিক মাধ্যম বার্তায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম তাঁর অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
তিনি দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা নারী তাঁর মোছা. মরিয়ম বেগম নামে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’। চলতি বছরের ১৭ জুন প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে তাঁদের বিয়ে হয়।
বিবৃতিতে এমপি নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তিনি পরিবারসহ ঢাকার মগবাজারে অবস্থানকালে তাঁর গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর এক আত্মীয় বহিরাগতদের নিয়ে এসে তাঁদের জিম্মি করে এবং অর্থ দাবি করে। চাঁদা না পেয়ে এবং পূর্বশত্রুতার জেরে ওই সিসিটিভি ফুটেজ অবৈধভাবে সংগ্রহ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে সংসদ সদস্যের প্রথম ও কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী এবং শ্বশুরের বক্তব্যসংবলিত ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পায়, যেখানে তাঁরা বিষয়টিকে পারিবারিক ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেন। তাকে ব্ল্যাকমেইল ও চরিত্রহননের চেষ্টা করা হয়েছে বলেন তিনি।
তবে জামায়াত এমপির ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ নানান প্রশ্ন, দ্বিতীয় স্ত্রী ও শ্বশুরের বক্তব্যে অমিল পাওয়া গেছে।
সূত্র-বাংলাবাজার