ভালো স্ট্রেস বদলে দিতে পারে জীবন
‘স্ট্রেস’ বা মানসিক চাপের নাম শুনলেই বেশিরভাগ মানুষের মনে নেতিবাচক ধারণা আসে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব ধরনের চাপ ক্ষতিকর নয়।
বরং সঠিক মাত্রার স্ট্রেস মানুষকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করে, শারীরিক সক্ষমতা বাড়ায় এবং জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত হতে সাহায্য করে।
যুক্তরাষ্ট্রের এমোরি ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক ও এমোরি লাইফস্টাইল মেডিসিন অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ডা. শ্যারন বার্গকুইস্টের মতে, অতিরিক্ত চাপ যেমন শরীর ও মনের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি একেবারে চাপহীন জীবনও স্বাস্থ্যকর নয়।
মানুষের শরীর ও মস্তিষ্ক এমনভাবে তৈরি, যাতে পরিমিত চাপ তাকে নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এবং আরও দক্ষ হয়ে উঠতে সহায়তা করে।
ভালো স্ট্রেস বনাম ক্ষতিকর স্ট্রেস
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন চাপ যা নতুন কিছু শেখা, লক্ষ্য অর্জন বা অর্থবহ কোনো কাজের জন্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করে, সেটিই ইতিবাচক বা ‘ভালো স্ট্রেস’।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে শরীরে ডোপামিন, সেরোটোনিন ও অক্সিটোসিনের মতো হরমোনের কার্যক্রম বাড়ে, যা উদ্দীপনা, আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি করতে সাহায্য করে।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে চলা, অনিশ্চিত বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা চাপ ক্ষতিকর হয়ে ওঠে।
এতে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা হ্রাস এবং মানসিক অবসাদের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
চাপকে ভয় নয়, নিয়ন্ত্রণে আনুন
ডা. বার্গকুইস্টের মতে, জীবনে চাপ এড়ানো সম্ভব নয়। বরং প্রয়োজন হলো কোন চাপ উপকারী আর কোনটি ক্ষতিকর, তা বুঝে সঠিকভাবে মোকাবিলা করা। চাপকে পুরোপুরি দূর করার চেষ্টা না করে, স্বাস্থ্যকর মাত্রায় ধরে রাখাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
যেভাবে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাবেন স্ট্রেস
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, কয়েকটি অভ্যাস চাপকে ইতিবাচক শক্তিতে পরিণত করতে পারে—
নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন, তবে অতিরিক্ত চাপ নেবেন না।
এমন লক্ষ্য বেছে নিন, যা আপনার মূল্যবোধ ও জীবনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
কাজের পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুম নিশ্চিত করুন, যাতে শরীর ও মন পুনরুদ্ধারের সুযোগ পায়।
নিয়মিত শরীরচর্চা করুন। এটি মানসিক দৃঢ়তা বাড়ানোর পাশাপাশি চাপ মোকাবিলার ক্ষমতাও উন্নত করে।
নিজের সক্ষমতার ওপর বিশ্বাস রাখুন। মানুষ স্বাভাবিকভাবেই নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে জন্মায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্ট্রেসকে শত্রু না ভেবে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে সেটিই হতে পারে ব্যক্তিগত উন্নয়ন, সুস্থতা এবং দীর্ঘমেয়াদি ভালো থাকার অন্যতম চাবিকাঠি।