কেরোসিনের দাম এখন ভারতের দ্বিগুণ
জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে দ্রব্যমূল্য ও পরিবহন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বেড়েছে বাস-ট্রাক ভাড়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমার দিনে দেশে এমন বৃদ্ধিতে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ধিত এ মূল্য প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা।
দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষ এবং কৃষকের ব্যবহার্য কেরোসিনের দাম এখন ভারতের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে । ভারতে খোলাবাজারে বর্তমানে কেরোসিনের গড় বিক্রি মূল্য ৪৬.৮০ রুপি। এক রুপিতে ১.২৮ টাকা হারে এ দাম দাঁড়ায় ৫৯.৯০ টাকা। শতকরা হারে এ দাম বাংলাদেশের তুলনায় ৬১.২৯ শতাংশ কম।
সোমবার সকালে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ২.১৬ ডলার বা ২.০৮ শতাংশ কমে ১০১.৭১ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ব্যারেলে ২.১৫ ডলার বা ২.১৪ শতাংশ কমে নেমে আসে ৯৮.১৫ ডলারে । যদিও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, সরকার বাধ্য হয়ে মূল্য সমন্বয় করেছে। প্রতিবেশী দেশে পাচারের আশঙ্কা থেকে বাড়াতে হয়েছে বলে উল্লেখ করে ভোক্তাদের কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। ডিজিটালম্যাপ দেখুন
দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের দাবি, এমনিতেই গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনসাধারণের নাভিশ্বাস উঠছে। মূল্যস্ফীতির তীব্র চাপে মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের শ্রমজীবী মানুষের যখন নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম, তখন সরকারের এমন জনবিরোধী সিদ্ধান্ত দেশকে গভীর সংকটের দিকে নিয়ে যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, গত ১৯ এপ্রিল যখন প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৫ টাকা, কেরোসিন ১৮ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা এবং অকটেন ২০ টাকা বাড়ানো হয় তখনই আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। সেদিনের পর থেকে বিশ্ববাজারে দাম কিছুটা ওঠানামা করলেও শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো তফাৎ হয়নি যে এভাবে উচ্চহারে দাম বাড়াতে হবে। এমন সিদ্ধান্তে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র জনঅসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।