আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে রাজশাহীতে বর্ণাঢ্য র্যালি ও সমাবেশ
‘আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মান, জীবন ও সুস্থতায় তাদের অবদান’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজশাহীতে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস-২০২৬। দিবসটি উপলক্ষে উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরাম, রাজশাহী মহানগর-এর আয়োজনে নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে বর্ণাঢ্য সমাবেশ ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার সকাল ১০টায় সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে আয়োজিত সমাবেশে রাজশাহীর বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় তাদের হাতে বিভিন্ন দাবিসংবলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
সমাবেশে বক্তারা আদিবাসীদের ভূমি দখল রোধে কার্যকর পদক্ষেপ, শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে সুযোগ বৃদ্ধি, সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং ভাষা-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মাধ্যমে তারা দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করে আসছেন। তবে ভূমি নিয়ে জটিলতা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে পিছিয়ে থাকা, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং সামাজিক বৈষম্যসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন তারা।
তারা বলেন, আদিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে শুধু দিবস পালন যথেষ্ট নয়। তাদের ভূমির নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান এবং সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষায় রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানের ব্যানারে প্রধান অতিথি হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ইশা-এর নাম উল্লেখ থাকলেও সার্বিক সমস্যার কারণে তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরাম, রাজশাহী মহানগরের সভাপতি সুমী মুর্মু।
সমাবেশ শেষে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও দাবিগুলো তুলে ধরে একটি দীর্ঘ বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন রঙের ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে নগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যে র্যালিটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
র্যালিটি সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট থেকে নগরীর জাদুঘর মোড় পর্যন্ত যায়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা আদিবাসীদের ভূমি, শিক্ষা, চাকরি, সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
আয়োজকরা বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।